ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিকরা ইউক্রেন যুদ্ধ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে রাশিয়া যুদ্ধের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানে নিজেদের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের বৈঠক আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। এ বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্থগিত হয়ে থাকা কূটনৈতিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি মার্কিন দূতদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ল্যাভরভ ইউক্রেন সংঘাতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানে রাশিয়ার প্রস্তুতির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি মস্কো এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখাকে রাশিয়া অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকটি দেশের নীতির সমালোচনা করে মস্কো অভিযোগ করেছে, তারা এখনও রাশিয়াকে ‘কৌশলগতভাবে পরাজিত’ করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বৈঠকের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানায়, রুবিও ও ল্যাভরভ যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে বৈঠকের বিস্তারিত জানানো হয়নি। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। বিশেষ করে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনায় মস্কোর সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এ বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে অন্যান্য ইস্যুতে অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, সুযোগ তৈরি হলে যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। এদিকে ল্যাভরভও সাংবাদিকদের বলেন, প্রশ্ন করা এবং তার উত্তর পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, সংঘাতের অবসান নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য সম্পর্কেও রুবিওর সঙ্গে আলোচনা করবেন।
অন্যদিকে জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরুজ্জীবিত করার উপায় নিয়ে তার ‘গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ চলমান অবস্থায় ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এর জবাবে রাশিয়াও ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। জুনের শেষ দিকে রাশিয়ার এক বড় হামলায় রাজধানী কিয়েভে অন্তত ৩০ জন নিহত হন।










