প্রাই দুই যুগ ধরে বিশ্ব ফুটবলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে করেছেন একের পর এক রেকর্ড, পেয়েছেন কোটি কোটি ভক্তদের ভালোবাসা। এবার হয়তো সময়টা ফুরিয়ে এসেছে, বুটজোড়া তুলে রাখার সময়ও হয়তো চলে এসেছে। রোনালদোর কাছেও হয়তো মনে হয়েছে, এবার বোধহয় তার থামা উচিত। তাইতো ইঙ্গিত দিলেন, এ বছরই হতে পারে তার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ বছর।
দীর্ঘ দুই যুগ ধরে ফুটবলে রাজত্ব করা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবার ক্যারিয়ারের ইতি টানার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অসংখ্য রেকর্ড ও ভক্তদের ভালোবাসা পাওয়া এই পর্তুগিজ তারকা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমই হতে পারে তার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়।
রোববার বিখ্যাত সাময়িকী ভোগ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৪১ বর্ষী রোনালদো বলেন, ‘সম্ভবত এটাই আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ বছর, এবং আমি এক অসাধারণ কীর্তি রেখে যেতে চাই।’
রোনালদোর বর্তমান ক্লাব আল নাসরের সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে এর আগেও বেশ কয়েকবার অবসর প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। গত নভেম্বরে রোনালদো জানিয়েছিলেন, আরও ‘এক বা দুই বছর’ খেলার প্রত্যাশা করছেন। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ।
শুধু অবসরের কথা ভাবাই নয়, ফুটবল-পরবর্তী জীবন নিয়েও পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন রোনালদো। পরিবারকে আরও বেশি সময় দিতে চান তিনি। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিংবদন্তি বলেছেন, ‘আমার ভবিষ্যৎ পুরোপুরি পরিকল্পনা করা আছে। এত কিছু আছে যা আমাকে ব্যস্ত রাখবে যে, একটি বিষয় বলাটা কঠিন।’
ফুটবল থেকে সরে যাওয়ার পর জীবনে তৈরি হতে যাওয়া শূন্যতাটিও বিভিন্নভাবে পূরণ করতে চান পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। ভ্রমণ, পরিবারকে সময় দেওয়া এবং প্যাডেল খেলার মতো বিষয়গুলো উপভোগ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
রোনালদো বলেন, ‘ফুটবল ছেড়ে দিলে একটি বড় শূন্যতা তৈরি হবে। সেটি শুধু একটি বিষয় দিয়ে নয়, বিভিন্নভাবে পূরণ করতে হবে। আরও আনন্দ করতে হবে, বেশি ভ্রমণ করতে হবে, প্যাডেল দেখতে ও খেলতে হবে-যেটা আমি খুব পছন্দ করি। শেষ পর্যন্ত ২৫ বছর কেটে গেছে, যেখানে ছিল অনেক ত্যাগ।’
স্পোর্টিং সিপি দিয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করা রোনালদো খেলেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি আল নাসেরের হয়ে খেলছেন। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় কেটেছে রিয়াল মাদ্রিদে। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে ৪৩৮ ম্যাচে ৪৫০ গোল করে ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি।










