বয়সে ত্রিশের ঘর ছাড়িয়ে গেছেন দুজনই, তবুও তাদের মাঠের দাপট থামছেই না। রেকর্ডবুকে আধিপত্য করা লিওনেল মেসি-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর একে অন্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার লড়াই বইছে সমানতালেই। লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিংহাসনে সিআর সেভেনকে পেছনে ঠেলে নিজের নাম লিখেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
আন্তর্জাতিক ও ক্লাব মিলিয়ে পেশাদার ফুটবলে এতদিন পেনাল্টি ছাড়া গোল করার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন দুজনে। লিগ ওয়ানে লিওনের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী গোলে সেই তালিকায় এক নম্বরে উঠে গেছেন মেসি। যা আবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে ১৫০ ম্যাচ কম খেলেই। পিএসজি তারকা মেসির গোলসংখ্যা এখন ৬৭২, এক গোল কম নিয়ে তালিকার দুইয়ে পর্তুগিজ মহাতারকা।
ক্যারিয়ারের পেনাল্টি ছাড়া গোলে রোনালদোকে ছাড়িয়ে গেলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও জাতীয় দলের হয়ে পিছিয়ে আছেন মেসি। পেনাল্টি ছাড়া গোল করার তালিকায় আর্জেন্টিনা জার্সিতে ৬৭ বার জালের দেখা পেয়েছেন এমএলটেন। সেখানে ১০১টি গোল রোনালদোর।
অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মেসির ১০৮ গোলের বিপরীতে রোনালদোর আছে ১২২ গোল। তবে লিগ, অল টাইম ক্লাবের হয়ে তালিকায় এগিয়ে আছেন মেসি। জাল খুঁজে নেয়ার ক্ষেত্রেও রোনালদোর চেয়ে কম সময় খরচ করেছেন পিএসজি ফরোয়ার্ড।
অবশ্য রেকর্ডের খাতায় লিও’র চেয়ে বেশি জায়গায় দাপট দেখিয়েছেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। আর্জেন্টাইন অধিনায়কও কম যাননি। আন্তর্জাতিক থেকে ক্লাব হয়ে সবখানে দুজনে লড়েছেন পাশাপাশি থেকে। রেকর্ডে এবার মেসি ছাড়িয়ে গেলে অন্যবার সিংহাসন দখলে নিয়েছেন রোনালদো। একযুগ ধরে এভাবেই চলছে তাদের মহারণে।
পর্তুগাল জার্সিতে ১৮৯ ম্যাচ খেলা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড খেলেছেন চারটি বিশ্বকাপ, পাঁচটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, একটি নেশনস লিগ ফাইনাল এবং একটি কনফেডারেশন কাপ। ঝুলিতে আছে একটি নেশনস লিগ ও ইউরোর শিরোপা।
বিপরীতে, ১৬২ ম্যাচে মেসি খেলেছেন চারটি বিশ্বকাপ, ছয়টি কোপা আমেরিকা। যেখানে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের ঝুলিতে আছে একটি আন্তর্জাতিক শিরোপা। জাতীয় দলের হয়ে সর্বকালের সেরা গোলস্কোরার রোনালদো গোল পেয়েছেন প্রতি ১৪৯ মিনিটে। বিপরীতে মেসির অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০০ মিনিট। নন পেনাল্টি গোলের তালিকায়ও মেসিকে ছাড়িয়ে রোনালদো। পর্তুগিজদের হয়ে ১০১ বার জালে বল জড়িয়েছেন তিনি, সেখানে পেনাল্টি ছাড়া ৬৭টি গোল পেয়েছেন মেসি।
পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদো চলতি ক্লাব মৌসুমে ধুঁকতে থাকলেও মেসি আছেন উড়ন্ত ফর্মে। মৌসুমে এপর্যন্ত একবার মাত্র জালের দেখা পেয়েছেন ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড। বিপরীতে পিএসজির হয়ে ১১ ম্যাচে ৬টি গোল পেয়ে গেছেন মেসি, ম্যাচের পর ম্যাচে করে চলেছেন অ্যাসিস্টও।







