এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুদের দেশ ভেনেজুয়েলা; একথা অনেকেরই জানা। তবে তেলের বাইরেও দেশটিতে রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও খনিজ ভান্ডার। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং খনিজ খাত সম্প্রসারণে আগ্রহ দেখানোর পর দেশটির সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক বলেছেন, ভেনেজুয়েলার আছে ইস্পাত, খনিজ ও গুরুত্বপূর্ণ সব খনিজ সম্পদ। দেশটির খনি শিল্পের একসময় গৌরবময় ইতিহাস ছিল, যা এখন জীর্ণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা আবার ফিরিয়ে আনবেন।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুদ
ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত তেল মজুদ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বে সর্বাধিক। তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মজুদ প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ব্যারেল। দেশটি পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের (ওপেক) প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একটি দেশ। এর সদস্য মোট ১২ টি দেশ। এই বিপুল তেল মজুদের বড় অংশ রয়েছে দেশের পূর্বাঞ্চলের ওরিনোকো বেল্টে, যা প্রায় ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। অঞ্চলটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর নিয়ন্ত্রণে। এখানকার তেল অতিভারী হওয়ায় উত্তোলন ও পরিশোধন ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিনির্ভর, যা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিফাইনারিগুলোতে সম্ভব।
কারা কেনে ভেনেজুয়েলার তেল
একসময় ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, বিনিয়োগের অভাব ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে উৎপাদন কমে যায়। ২০২৪ সালে দেশটির গড় তেল উৎপাদন ছিল দৈনিক প্রায় ৯ লাখ ৫২ হাজার ব্যারেল। ওই বছর বিদেশে তেল বিক্রি করে ভেনেজুয়েলার আয় হয় প্রায় ১৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে চীন ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। মোট রপ্তানির প্রায় ৮২ শতাংশ। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা।

প্রাকৃতিক গ্যাস
প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের দিক থেকেও ভেনেজুয়েলা বিশ্বে নবম স্থানে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির গ্যাস মজুদ প্রায় ৫ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার, যা ল্যাটিন আমেরিকার মোট গ্যাস মজুদের প্রায় ৭৩ শতাংশ। এর প্রায় ৮০ শতাংশই তেল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত গ্যাস।
স্বর্ণ ও মূল্যবান খনিজ
ভেনেজুয়েলার কাছে ল্যাটিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় সরকারি স্বর্ণভাণ্ডার রয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির স্বর্ণ মজুদ প্রায় ১৬১ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য ২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সরকারি হিসাবে, ভেনেজুয়েলার অনাবিষ্কৃত স্বর্ণের মজুদ আরও অনেক বেশি হতে পারে। ২০১৮ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির কাছে অন্তত ৬৪৪ মেট্রিক টন স্বর্ণ থাকার কথা বলা হয়। এছাড়া ওরিনোকো মাইনিং আর্ক এলাকায় হীরা, নিকেল, কোলটান ও তামার বড় মজুদের কথা জানিয়েছে সরকার।
অন্যান্য খনিজ সম্পদ
দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার রয়েছে,
- প্রায় ৩ বিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লার মজুদ
- ১৪ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন মেট্রিক টন লৌহ আকরিক
- প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন নিকেল
- প্রায় ৯৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন বক্সাইট
- এক হাজার মিলিয়নের বেশি ক্যারেট হীরার মজুদ
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে তেলের বাইরে এসব খনিজ সম্পদই ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিকে নতুনভাবে দাঁড় করাতে পারে।








