মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া, প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারতে খেলতে আপত্তি। সবমিলিয়ে মুখর দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। এবার এই তালিকায় যুক্ত হলো বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের তামিম ইকবালকে করা ‘বিবৃতিকর’ মন্তব্য। এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন, জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক টাইগার অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে মন্তব্য করেছেন বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। বিসিবি পরিচালকের এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। শুক্রবার রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হতাশা প্রকাশ করেন শান্ত।
রাজশাহী অধিনায়ক বলেছেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। একজন সফল ক্রিকেটার এবং সাবেক অধিনায়ক সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা মোটেও কাম্য নয়। প্রতিটি ক্রিকেটারই সম্মানের আশা করে। ক্রিকেট বোর্ড আমাদের অভিভাবক এবং তাদের কাছ থেকে আমরা সবসময় নিরাপত্তা ও সমর্থন আশা করি। ঘরের মানুষের কাছ থেকে এমন মন্তব্য পাওয়া সত্যিই কষ্টকর। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি এটি কোনোভাবেই সমর্থন করি না।’
আগামী ফেব্রুয়ারিতে গড়াবে ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টের আগে এসব ঘটনা খেলোয়াড়দের মনস্তত্বে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন শান্ত। বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, প্রভাব তো পড়েই। আমরা যতই বলি পেশাদার ক্রিকেটার এবং আমাদের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। আসলে বিষয়টি সহজ নয়। আমরা মাঠের বাইরেও অনেক কিছু চিন্তা করি। তবে একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের চেষ্টা থাকে এই বিষয়গুলোকে দূরে সরিয়ে রেখে দেশের জন্য সেরাটা দেওয়ার। বিশ্বকাপের আগে এ ধরনের পরিস্থিতি না হলেই ভালো হতো।’
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া এবং নিরাপত্তা শঙ্কাকে কেন্দ্র করে ভারতে আসন্ন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বলে আইসিসিকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিসিবি। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে নিজের ভাবনা জানান তামিম ইকবাল। তামিম তার বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেয়া অবশ্যই দুঃখজনক। তবে অনেক সময় আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যা সমাধান করা যায়। আমি বোর্ডে থাকলে হুট করে মন্তব্য না করে দেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতাম।’
তামিমে বক্তব্যের একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে এম নাজমুল লিখেছেন, ‘এইবার আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখল।’







