যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ১১২১ কোটি ডলার ব্যয়, এগিয়ে রিপাবলিকানরা

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠন। টেক্সাস, ওহাইও ও মিশিগানের সিনেট নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় বেশি অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করেছেন। বড় অঙ্কের অনুদানদাতাদের মধ্যে রয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কসহ কয়েকজন ধনকুবের।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কাজের মূল্যায়ন হিসেবেও দেখা হচ্ছে এ নির্বাচনকে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাব অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে বিজ্ঞাপন প্রচার ও বিজ্ঞাপনের জন্য বরাদ্দসহ মোট ১ হাজার ১২১ কোটি ডলার ব্যয়ের হিসাব পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পুরো মৌসুমে বিজ্ঞাপনে ব্যয় হয়েছিল ৩২০ কোটি ডলার।
ব্যয়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো ও রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এখন পর্যন্ত ৫৩৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে।
তালারিকো নির্বাচনী তহবিল হিসেবে প্রায় ১৪৬ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছেন। প্যাক্সটন সংগ্রহ করেছেন প্রায় ২২ মিলিয়ন ডলার। তবে প্রার্থীদের বাইরের সংগঠনগুলো প্যাক্সটনের পক্ষে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। তালারিকোর পক্ষে এ ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুপার পিএসি ম্যাগা ইনক প্যাক্সটনের পক্ষে ৩৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় হচ্ছে ওহাইওর সিনেট নির্বাচনে। ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন ও রিপাবলিকান জন হুস্টেডের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যয় হয়েছে ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি। এর মধ্যে হুস্টেডের পক্ষে প্রায় ২৪৮ মিলিয়ন ডলার এবং ব্রাউনের পক্ষে ১৮৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মিশিগান। রিপাবলিকান মাইক রজার্স ও ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আনুমানিক ৩৩৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। রজার্স প্রায় ২৩ মিলিয়ন ডলার এবং এল-সায়েদ প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছেন। তবে বাইরের সংগঠনগুলো রজার্সের পক্ষে প্রায় ১৬৯ মিলিয়ন ডলার এবং এল-সায়েদের পক্ষে ৯৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।

ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
১৪ অক্টোবর পর্যন্ত রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি (আরএনসি) প্রায় ৩৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান পেয়েছে এবং ব্যয় করেছে প্রায় ৩০৩ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি) প্রায় ২৫২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করলেও ব্যয় করেছে প্রায় ২৫২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার।
রাজনৈতিক সাময়িকী পলিটিকোর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রিপাবলিকানরা ইলন মাস্কের মতো বড় অনুদানদাতাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। দলটির সাধারণ ক্ষুদ্র অনুদানদাতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ কমেছে। সাধারণ মানুষের দেওয়া অনুদানের বড় অংশ সরাসরি ট্রাম্পের কাছে গেছে, প্রার্থীদের কাছে নয়।
এবারের নির্বাচনে বড় অনুদানদাতাদের বেশির ভাগই রিপাবলিকানপন্থী। টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক দিয়েছেন ৪৪৬ মিলিয়ন ডলার। শিপিং ও সরবরাহব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইউলাইনের মালিক এলিজাবেথ ও রিচার্ড উহলাইন দিয়েছেন প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সুসকেহানা ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জেফ ইয়াস ও তার স্ত্রী জেনিস ইয়াস দিয়েছেন ১১০ মিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটপন্থী প্রার্থীদের মধ্যে জনহিতৈষী জর্জ সরোস দিয়েছেন প্রায় ১০২ মিলিয়ন ডলার। নিউইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ ডেমোক্র্যাটদের ৮৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পরে এর সঙ্গে আরও ৩৬ মিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়েছে। লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান ও তার স্ত্রী মিশেল ইও দিয়েছেন প্রায় ৪১ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার।
মাস্কের অনুদানের বড় অংশের মধ্যে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের প্রচারে। সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লক্ষ্যেই এ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপাবলিকানপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ওয়ান নেশন নির্বাচনী প্রচারে ১৩৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। সাবেক রিপাবলিকান সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
এ ছাড়া রক্ষণশীল সংগঠন আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক ব্যয় করেছে ৬৪ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার এবং আমেরিকান প্রস্পেরিটি অ্যালায়েন্স ব্যয় করেছে প্রায় ৫১ মিলিয়ন ডলার।
ডেমোক্র্যাটপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে মেজরিটি ফরওয়ার্ড ১০২ মিলিয়ন ডলার, হাউস মেজরিটি ফরওয়ার্ড ৯৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার এবং ইকোনমিক অপরচুনিটি ফান্ড ৪১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় বেশি হলেও ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারে সমর্থকদের আগ্রহ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।





