বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ একাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন মার্ক কুকালন। স্বপ্ন পূরণের পথে ভাগ্য সহায় হয়নি যুব ডিফেন্ডারের। চোটের কাছে হার মেনে ১৯ বছর বয়সেই ফুটবলকে বিদায় জানাতে হল। খোলা চিঠিতে বুটজোড়া তুলে রাখার কথা জানিয়েছেন এ স্পেনিয়ার্ড।
দুবছর আগে উয়েফা ইয়ুথ লিগের একটি ম্যাচে প্রতিপক্ষের কড়া ট্যাকলের ফলে লিগামেন্টে ভয়ঙ্কর রকমের চোট পান কুকালন। চোট গুরুতর হলেও সাধারণত দীর্ঘসময় পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য থেকে মাঠের লড়াইয়ে ফিরে আসা সম্ভব হয়। কুকালনের চোটে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। সেসময় ক্ষতস্থানে এক ধরনের বিরল ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে শুরু হয় সংক্রমণ। ধীরে ধীরে ব্যাকটেরিয়া তার হাঁটুতে তরুণাস্থি ক্ষতিগ্রস্ত করতে থাকে। যা ফুটবলে ফিরে আসার জন্য অনুপযুক্ত করে ফেলে তাকে।
শেষপর্যন্ত দুঃখ ভরাক্রান্ত মনে খোলা চিঠি লিখে অবসর নিলেন তরুণ ডিফেন্ডার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চিঠিতে কুকালন লিখেছেন, ‘আমি জানি না কীভাবে এই চিঠি শুরু করব। তাই হৃদয়ের গভীর থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুরু করছি। এই সময়ে আমাকে সমর্থন দিয়েছেন তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
‘রিয়াল মাদ্রিদ একাডেমিতে ২০১৬ সালের গ্রীষ্মে একজন শিশু হিসেবে স্বপ্নে ভরা ব্যাকপ্যাক নিয়ে এসেছিলাম। স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে সেসময় খুব, খুব খুশি হয়েছিলাম। তবে ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। যখন যুব লিগের হয়ে খেলতে নেমে গুরুতর চোটের সম্মুখীন হই। বেশকিছু জটিলতার পর, সেই চোট আমাকে ফুটবলকে বিদায় জানানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। নিজের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করার আগেই এটা করতে হচ্ছে।’
‘গত দুই বছরে সমস্ত শক্তি দিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে সংগ্রাম করেছি। চেষ্টা করেছি খেলাটি আবার উপভোগ করতে, নিজেকে নিংড়ে দিয়েও ফিরে আসা সম্ভব হয়নি। আমাকে ভুল বুঝবেন না, এটি মোটেও দুঃখজনক বিদায় নয়।’
‘সর্বোপরি, মনে করি সত্যিকার অর্থেই বিশ্বের সেরা ক্লাবের অংশ হতে পেরে নিজের স্বপ্নে বেঁচে থাকার সুযোগ পেয়েছি। একজন ব্যক্তি ও খেলোয়াড় হিসেবে অনেককিছুই শিখেছি ও পরিপক্ব হয়েছি। জীবনের বাকি সময়টুকু এখানের মূল্যবোধগুলো নিয়েই চলার চেষ্টা করব এবং নিজেকে অনুপ্রাণিত করব। ফুটবল আমাকে শিখিয়েছে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই জয়-পরাজয় রয়েছে। এই সব নিয়েই সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হবে, লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সেই শিক্ষাগুলো চিরকাল জীবনের অংশ হয়ে থাকবে।’
‘এ যাত্রায় যারা আমার পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার সময় এসেছে। পরিবারকে সীমাহীন ধন্যবাদ। আমার বাবা-মাকে ধন্যবাদ, যারা সবসময় আমাকে প্রতিটি সিদ্ধান্তে সমর্থন করেছেন। এটা সত্য যে আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য বাড়ি ছেড়ে যাওয়া কঠিন ছিল। কিন্তু যখন তারা আমাকে খেলার মাঠে উপভোগ করতে দেখে, তাদের আনন্দের মুখ দেখে গর্ববোধ করতাম। আমার বন্ধুদেরও ধন্যবাদ, যার নিঃস্বার্থভাবে আমাকে সমর্থন দিয়েছিলেন।’







