যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর টেক্সাসের ইউলেস শহরের বাসিন্দা রৌনক আলমকে সম্প্রতি একটি গির্জার গ্রাফিতি মামলায় ঘৃণামূলক অপরাধের অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হলেও, নতুন করে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন আলমের আইনজীবী। এরআগে, গির্জার প্রাচীরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে গ্রাফিতি করতে দেখা যায় আলমসহ আরও দুজনকে।
শনিবার ২৭ সেপ্টেম্বর এবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
ট্যারান্ট কাউন্টির জুরি গত সপ্তাহে রৌনক আলমকে অপরাধমূলক দুষ্কর্মের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে। যদিও ঘৃণামূলক অপরাধের অভিযোগে জুরি তাকে নির্দোষ বলে রায় দেয়, তবু আলমকে ৫ বছরের স্থগিত কারাদণ্ড, প্রবেশন, ১০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা এবং একটি ক্ষমা চাওয়ার চিঠি লেখার আদেশ দেয়া হয়। আশ্চর্যজনকভাবে, বিচারক নিজে থেকে রায়ের অংশ হিসেবে ছয় মাসের কারাদণ্ডও ঘোষণা করেন, যা আদালতে উপস্থিত জুরি সদস্যদের অনেককে হতবাক করে।
প্রতিশোধের মতো সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে আলমের আইনজীবী অ্যাডোয়া আসান্তে বলেন, এটি স্পষ্টতই আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে তার গুরুতর ঘৃণামূলক অপরাধের অভিযোগ হারানোর প্রতিশোধ। এছাড়াও গ্র্যান্ড জুরিতে নতুন করে অভিযোগ আনা হয়েছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক চাপে, যা আমাদের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ট্যারান্ট কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই মামলার বিচার চলাকালীন বেশ কয়েকজন জুরি সদস্য অনুরোধ করেন যে আমরা মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগটি গ্র্যান্ড জুরিতে পাঠাই। আমরা সেই অনুরোধেই কাজ করেছি।
মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইউলেসের ‘আনকমন চার্চ’—যেখানে আলম এবং আরও দুজন ব্যক্তিকে গির্জার প্রাচীরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে গ্রাফিতি করতে দেখা যায়। এই ঘটনা ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং সেখান থেকেই মামলা শুরু হয়।
আলম আদালতে যুক্তি দেন, এটি ছিল তার বাকস্বাধীনতার ও প্রতিবাদের অধিকার চর্চা। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা অ্যাটর্নি ফিল সোরেলস ঘৃণামূলক অপরাধের অভিযোগ এনেছিলেন।
বুধবার বিকেলে, রৌনক আলম তার বন্ড অফিস থেকে একটি ফোন পান এবং জানতে পারেন যে তাকে বিকেল সাড়ে ৪ টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তিনি তার পরিবারের সঙ্গে ট্যারান্ট কাউন্টি শেরিফের অফিসে হাজির হন এবং সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বর্তমানে আলমকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিশিষ্ট সেলে রাখা হয়েছে, যা নিয়ে তিনি নিজেই জেল থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, আমাকে চুপ করানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তারক্ষী কারাগারে রাখা হচ্ছে। ট্যারান্ট কাউন্টি ডিএ-এর অফিস থেকে অভিযোগ না থাকলে আমি এখানে থাকতাম না। এটা ইচ্ছাকৃত বলে মনে হচ্ছে এবং আমার কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে বিচার ব্যবস্থা কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত।
এখন অপেক্ষা, নতুন মামলার শুনানির জন্য। আলমের আইনজীবী ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং বলছেন—এই মামলা বাকস্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে বাধা দেওয়ার একটি ভয়ানক নজির।







