ছন্দ আর ফিরে পাওয়া হল না রংপুর রাইডার্সের। টানা আট জয়ে প্লে-অফ নিশ্চিতের পর দুর্বার রাজশাহীর কাছে টানা দুই ম্যাচ হেরেছিল দলটি। এবার চিটাগং কিংসের বিপক্ষেও জয়ে ফেরা হল না তাদের। টানা তৃতীয় হার দেখেছে গ্লোবাল চ্যাম্পিয়নরা। রংপুরকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্লে-অফের দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে গেল চিটাগং। চিটাগংয়ের জয়ে প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে ঢাকা।
টানা তিন হারে শীর্ষ হারিয়েছে রংপুর রাইডার্স। ১১ ম্যাচে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে রানরেটে পিছিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে নুরুল হাসান সোহানের দল। এক ম্যাচ কম খেলে সমান পয়েন্ট নিয়ে রানরেটে এগিয়ে শীর্ষে উঠেছে ফরচুন বরিশাল। ১০ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে উঠেছে চিটাগং। লিগপর্বের সব ম্যাচ খেলে সমান পয়েন্ট নিয়ে চারে রাজশাহী।
প্লে-অফের দৌঁড়ে এতদিন কাগজে-কলমে টিকে ছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। ১০ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট তাদের। বাকি দুটি ম্যাচে জয় পেলে পয়েন্ট হতো ১০। তাতে এতদিন সম্ভাবনা ছিল। তবে ইতিমধ্যে চারটি দল ১২ বা তার বেশি পয়েন্ট আদায় করায় শেষ চারের স্বপ্ন শেষ চিত্রনায়ক শাকিব খানের মালিকানাধীন দলটির। সবার আগে আসর থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে সিলেট স্ট্রাইকার্সের। ১১ ম্যাচে তাদের জয় কেবল দুটিতে। তবে প্লে-অফের দৌড়ে এখনও টিকে আছে খুলনা টাইগার্স। ১০ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট তাদের। প্লে-অফে খেলতে বাকি দুটি ম্যাচে জয় আবশ্যক দলটির। কোনো একটি ম্যাচে হেরে গেলে ছিটকে যাবে।
বুধবার মিরপুরে দিনের প্রথম খেলায় টসে জিতে রংপুরকে আগে ব্যাটে পাঠায় চিটাগং। নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেটে ১৪৩ রান তোলে রংপুর। জবাবে ১৪ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর করে বন্দরনগরীর দলটি।
আগে ব্যাটে নামা রংপুর শুরুতেই চাপে পড়ে। ৩৭ রানে তিন উইকেট হারায়। ৬৮ রানের মধ্যে হারায় পাঁচ ব্যাটারকে। পরে শেখ মেহেদীকে নিয়ে রংপুরকে টানেন ইফতিখার আহমেদ। ৩ ছক্কা ও ৭ চারে ৪৭ বলে ৬৫ রান করেন ইফতিখার। ২০ বলে ২২ রান করেন মেহেদী। সৌম্য সরকার ১৭ বলে ২৩ রান করেন। বাকিদের কেউ দুঅঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
চিটাগংয়ের হয়ে খালেদ আহমেদ দুই উইকেট নেন। একটি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও শামীম হোসেন পাটোয়ারী। উইকেট না পেলেও দারুণ করেছেন আলিস আল ইসলাম। ৪ ওভারে কেবল ১৪ রান খরচ করেছেন রহস্য স্পিনার।
জবাবে ২৯ রানে দুই ব্যাটার হারালেও চিটাগংকে চাপে পড়তে দেননি পারভেজ হোসেন ইমন। দুটি করে চার ও ছক্কায় ৪৩ বলে ৪১ রান করে আউট হয়ে যান দলীয় ১০৪ রানে। ১১৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে চিটাগং। হায়দার আলি ঝড়ো ব্যাটিংয়ে চাপ কাটিয়ে তোলেন।
১৮তম ওভারে আকিফ জাভেদের চার বলের চারটিতে ছক্কা হাঁকিয়ে চিটাগংকে জয়ের বন্দরে পৌঁছান। ছয়টি ছক্কা ও এক চারে ১৮ বলে ৪৮ রান করেন হায়দার। মোহাম্মদ মিঠুন ১৫ বলে ২০ এবং গ্রাহাম ক্লার্ক ১২ বলে ১৫ রান করেন।
রংপুরের হয়ে আকিফ জাভেদ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দুটি করে উইকেট নেন।







