ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে দেশ ছেড়েছিলেন মাত্র ১৫ দিন আগে। মা-বাবার চোখেমুখে ছিল ছেলেকে বিদায় জানানোর কান্না, আর ছেলের বুকে ছিল দারিদ্র্য জয়ের রঙিন স্বপ্ন। কিন্তু পর্তুগালের মাটিতে সেই স্বপ্নের আয়ু হলো মাত্র দুই সপ্তাহ। এক মর্মান্তিক ট্রেন-কার সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন প্রবাসী বাংলাদেশী রাম প্রসাদ সরকার।
পর্তুগালের দক্ষিণাঞ্চলীয় আলগার্ভ প্রদেশের ফারো ও পর্তিমাও-এর মাঝামাঝি একটি লেভেল ক্রসিংয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী প্রাইভেট কারটি একটি লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করছিল। এসময় দ্রুতগামী একটি ট্রেন কারটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলেই না ফেরার দেশে চলে যান রাম প্রসাদ সরকার। মাত্র ১৫ দিনের মাথায় পর্তুগালের মাটি তার রক্তে ভিজে গেল।
গাড়িতে থাকা আরও চারজন বাংলাদেশী প্রবাসী বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় জীবনের সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের চারজনের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
রাম প্রসাদের বিদেশের জীবনের শুরুটা হওয়ার কথা ছিল সাফল্যের গল্প দিয়ে, কিন্তু তা শেষ হলো এক বিয়োগান্তক ট্র্যাজেডিতে।
ঘর বাঁধার আশায় ঘর ছেড়েছিল ছেলেটি কিন্তু দেশে ফিরবে কফিনে করে।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে রাম প্রসাদের নিথর দেহটি তার প্রিয় স্বদেশের মাটিতে পরিবারের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
স্বপ্ন ছিল বিদেশের উপার্জনে পরিবারের অভাব ঘুচবে, কিন্তু সেই পরিবারটিই এখন পথ চেয়ে বসে আছে রাম প্রসাদের কফিনবন্দি দেহের জন্য।








