চট্টগ্রাম থেকে: পারিশ্রমিক না দেয়ায় অনুশীলন বয়কট করেছিলেন দুর্বার রাজশাহীর ক্রিকেটাররা। ম্যাচ না খেলার হুমকিও ছিল। বহুদূর গড়ায় জল। বিসিবির হস্তক্ষেপে শিথিল হয় বিষয়টি। অবশ্য সারাদিন মুখ বন্ধই রেখেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকপক্ষ। শেষে মাঝরাতে মুখ খুলেছে রাজশাহী কর্তৃপক্ষ, অভিযোগ অস্বীকারই করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
বিপিএলে চট্টগ্রাম পর্বে এসে টানা দুদিন অনুশীলন করেনি রাজশাহী। এরমধ্যে প্রথমদিন মঙ্গলবার পূর্ব নির্ধারিত বিশ্রামে থাকেন ক্রিকেটাররা। বুধবার সকাল ১০টায় অনুশীলনের সূচি ছিল। অনুশীলন শুরুর নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে জানানো হয় এদিনও বিশ্রামে থাকবে দল। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় পারিশ্রমিক না পাওয়ায় ক্রিকেটারদের অনুশীলন বয়কট করার কথা। বৃহস্পতিবারের মধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থ বুঝে না পেলে শুক্রবারের ম্যাচও বয়কট করার হুমকি দেন ক্রিকেটাররা।
বুধবার সারাদিন নাটকীয়তার পর সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসেন বিসিবি সভাপতি এবং বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ। চট্টগ্রামে রাজশাহীর ক্রিকেটার, টিম ম্যানেজমেন্ট ও ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতেও সমাধান আসেনি। যদিও বিসিবি প্রধানের পক্ষে বোর্ড পরিচালক মঞ্জুর আলম সংবাদমাধ্যমে কথা বলেন। জানান, বৃহস্পতিবারের মধ্যে সমাধান হবে বিষয়টির।
পরে রাত ১১টা ৪২ মিনিটে ভিডিও বার্তায় অবস্থান পরিষ্কার করেন দলটির অপারেশন ইন-চার্জ জায়েদ আহমেদ। শুরুতেই পারিশ্রমিক না পাওয়ায় অনুশীলন বয়কটের খবরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। বলেন, ‘অনুশীলন ও পারিশ্রমিকের বিষয়ে আমরা সারাদিন যে খবরগুলো দেখেছি, এটার সাথে আসলে একদমই সম্পৃক্ত নয়। আমরা এরইমধ্যে প্রতিটি ক্রিকেটারকে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি আগামীকাল অর্থাৎ ১৬ জানুয়ারি সবাইকে পারিশ্রমিক দেয়া হবে। এটার সঙ্গে অনুশীলনের সম্পর্ক নেই।’
জানান পুরো দল একত্রে না পাওয়ায় পরপর দুদিন অনুশীলন হয়নি। বলেছেন, ‘সিলেট থেকে আমরা যখন চট্টগ্রামে আসি, কয়েকজন ক্রিকেটার ঢাকায় নেমে বিশ্রামে গিয়েছিল। চট্টগ্রামে আমরা পুরো দলকে একসঙ্গে পাইনি। মঙ্গলবার রাতে কয়েকজন এসেছে, বুধবার এসেছে। এখনও এক-দুজন বাকি আছে। ক্রিকেটাররা বিশ্রাম চেয়েছিল বলেই ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে বিশ্রাম দেয়া হয়। এটাই ছিল বিষয়। পারিশ্রমিকের বিষয়ে বলব, ১৬ জানুয়ারি তারা পেয়ে যাবে। এতে কোনো সংশয় নেই।’
ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক দিতে দেরি হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেন জায়েদ আহমেদ। জানান, বৃহস্পতিবার পারিশ্রমিকের ২৫ শতাংশ অর্থ নগদ পাবেন ক্রিকেটাররা। আর ২৫ শতাংশ অর্থের চেক দিয়ে দেয়া হবে তাদের। অর্থাৎ, শুক্রবারের ম্যাচের আগে ৫০ শতাংশ পারিশ্রমিক পাবেন ক্রিকেটাররা।
পারিশ্রমিকের অর্থ পরিশোধে ক্রিকেটারদের আগেও চেক দিয়েছিল রাজশাহী। বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের চেক ফিরিয়ে দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংক থেকে চেক প্রত্যাখ্যান প্রসঙ্গে জায়েদ জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্ণধারের স্ত্রী শরীরে বলের আঘাত পাওয়ায় চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে দেশের বাইরে যেতে হয়। সে কারণে চেক জমা করে টাকা নিজেদের ব্যাংকে নিতে পারেননি ক্রিকেটাররা।
‘চেক বাউন্সের ব্যাপারটা হল, যেই ম্যাচে আমাদের দলের কর্ণধারের স্ত্রী মাঠে ছিলেন, ওই ম্যাচে সাইডলাইনে বসে থাকা অবস্থায় একটি বল আঘাত করে ওনার শরীরে। একটা হাড়ে চিড় ধরা পড়ে। তৎক্ষণাৎ তাকে ব্যাংকক নিয়ে যেতে হয় চিকিৎসার জন্য। তিনি সেখানেই ছিলেন।’
“চেকটা আমরা এর আগেই দিয়ে ফেলেছিলাম। আমরা চেকটা ওই তারিখে লিখে ফেলেছিলাম কিন্তু উনি দেশে নেই, তখন তিনি বললেন, ‘আমি তো দেশে নেই, তুমি দলকে বলো আমি আসার পরে যেন চেকটা জমা দেয়। না হয় ব্যাংক তো ফোন করে আমাকে পাবে না।’ এই জিনিসটা প্রতিটা ক্রিকেটারকে বলা হয়েছিল। এর ভেতরে ২-১ জন ক্রিকেটার হয়তো চেক জমা দিয়ে ফেলেছিল। তাদের মনে ছিল না। পরে যোগাযোগ করি যে, ‘আপনাদের তো বলা হয়েছে চেকটা জমা না দিতে।’ তখন তারা বলে যে, তাদের মাথায় ছিল না। তারা ভেবেছিল সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে।”
বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কী নিয়ে কথা হয়েছে তাও জানান রাজশাহীর পরিচালনা ইনচার্জ। বলেন, ‘বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে। আমাদের কর্ণধার কথা বলেছেন ফোনে। আমি নিজে সশরীরে দেখা করেছি। খুব সুন্দর কথা হয়েছে। পুরো পরিস্থিতিটা জানতে চেয়েছেন। খুব ছোট একটা বৈঠক ছিল। আমরা বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছি যে, কোথায় কোথায় ঘাটতি ছিল। পারিশ্রমিক দিতে যে দেরি হয়েছে, এজন্য দুঃখপ্রকাশ করেছি। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, আগামীকাল পারিশ্রমিক দেয়া হবে।’







