দেশজুড়ে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। শাক-সবজি, মাছ, ডিমসহ কৃষিপণ্যের বাজারও চড়া। অন্তর্বর্তী সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে সড়কপথে পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তাই পণ্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে ট্রেনে পণ্য পরিবহনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন এ উদ্যোগ কার্যকর হলে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক পরিসরে ট্রেনে সবজি পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের।
এমন পরিস্থিতিতে ১৫টি উৎপাদক অঞ্চল থেকে কৃষিপণ্য সংগ্রহ করে দেশব্যাপী সরবরাহ নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫টি অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য ট্রেনে করে চাহিদাসম্পন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয়া হবে। ছয়টি নিয়মিত দ্বিতীয় শ্রেণীর ট্রেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল থেকে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজি, ফলমূল, মাছ, ডিমসহ সব ধরনের কৃষিপণ্য সরবরাহ শুরু করবে রেলওয়ে।
এসব ট্রেনে লাগেজ ভ্যান সংযোজন করতে নির্দেশ দিয়েছে পূর্বাঞ্চলের রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগ। ট্রেনগুলো হলো ঢাকা মেইল (নং-১), চট্টগ্রাম মেইল (নং-২), নোয়াখালী এক্সপ্রেস (১২), ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস (৩৭), ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস (৩৮) ও ভাওয়াল এক্সপ্রেস (৫৬)। চাহিদা বৃদ্ধি পেলে ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত লাগেজ ভ্যান যুক্ত করা হবে। প্রয়োজনে কৃষিপণ্য সরবরাহের জন্য বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হবে বলেও জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ের এ-সংক্রান্ত নথিপত্র থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করে ঢাকা মেইল। একই পথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করে চট্টগ্রাম মেইল। এ রুটের বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিশেষ ব্যবস্থায় লাগেজ ভ্যানে করে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের পছন্দসই এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।
এছাড়া নোয়াখালী এক্সপ্রেস (১২) ঢাকা থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত, ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস (৩৭) চট্টগ্রাম থেকে ভূঞাপুর, ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস (৩৮) ভূঞাপুর থেকে চট্টগ্রাম এবং ভাওয়াল এক্সপ্রেস (৫৬) দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট সেকশনের একাধিক লোকাল ট্রেন স্থানীয় এলাকাগুলো থেকে সবজিজাতীয় পণ্য সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম শহরে সরবরাহের ব্যবস্থা করবে।
জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘সারা দেশে সবজি জাতীয় পণ্যের চাহিদা থাকলেও পরিবহন জটিলতায় স্থানভেদে দামের পার্থক্য হয়। রেলওয়ে স্বল্প খরচে কৃষিপণ্য দেশব্যাপী সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ছাড়াও দেশব্যাপী কৃষিপণ্যের সরবরাহ কিছুটা হলেও স্থিতিশীল হবে।’
সড়ক পথে সবজি পরিবহনে অতিরিক্ত খরচসহ পথে পথে চাঁদা দিতে হয় তাদের। এতে সবজির দামে বড় প্রভাব পড়ে।
এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, ট্রাকে করে গাড়ির অর্ধেক পণ্য নিলেও যে ভাড়া দিতে হয়, ট্রাকভর্তি পণ্য নিলেও একই ভাড়া দিতে হয়। কিন্তু ট্রেনে নিলে পণ্য হিসাবে ভাড়া দিতে হবে, এতে খরচ কমবে।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ট্রেনে গেলে যানজটে পড়বে না। এতে করে সময় সাশ্রয় হবে। আবার অল্প খরচেও পণ্য পরিহবন করা যাবে। ট্রেনে সবজি পরিবহন চালু হলে কৃষক, ব্যবসায়ীর পাশাপাশি সরকারও লাভবান হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী বলেছেন, যেসব ট্রেনে ল্যাগেজ ভ্যান আছে, সেগুলোতে অতিরিক্ত একটি বা দুইটি ল্যাগেজ ভ্যান লাগানো হচ্ছে। এরইমধ্যে রেল যোগাযোগ আছে এমন সবজি উৎপাদনকারী জেলাগুলোর ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে রেল বিভাগ।
সরদার সাহাদাত আলী আরও বলেন, ট্রেনে পণ্য লোড-আনলোড করতে কতটাকা খরচ পড়বে সেগুলো ট্রেনের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।








