সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেল-সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম নিয়ে নতুন বরিশল ইউনিয়ন গঠন এবং একই নামে উপজেলা করার উদ্যোগের প্রতিবাদে রেল ও সড়কপথ অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শেষে দাবি সমাধানের আশ্বাস পেয়ে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা। এতে রেল ও সড়কপথে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা এলাকায় এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন বাসুদেব ইউনিয়নের বাসিন্দারা। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সড়কেও যান চলাচল বন্ধ থাকে।
অবরোধ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা রেললাইনে স্লিপার ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। পাশাপাশি সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে রেল ও সড়কপথে চলাচলকারী যাত্রী এবং যানবাহনের চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
অবরোধের খবর পেয়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম রোমা। তারা তিন দিনের মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দাবির বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে সড়ক ও রেলপথ ছেড়ে যান।
বাসুদেব ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিন শের শাহ বলেন, জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়া তার ভাই প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সানির প্রভাব খাটিয়ে বাসুদেব ইউনিয়ন ভেঙে স্থানীয়দের না জানিয়ে বরিশল ইউনিয়ন গঠন করেছেন বলে তারা মনে করেন। তারা বরিশল ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হতে চান না। এখন আবার বরিশল নামে উপজেলা গঠনের চেষ্টা চলছে। তারা আগের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অধীনেই থাকতে চান। দাবি আদায়ের জন্যই তারা রেলপথ অবরোধ করেছিলেন।
বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নয়ন বলেন, বরিশল গ্রামটি তাদের এলাকা থেকে অনেক দূরে। সেখানে যেতে দীর্ঘ সময় লাগবে এবং অতিরিক্ত যানবাহন ভাড়া গুনতে হবে। এ কারণে তারা নতুন ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হতে চান না।






