জুজুৎসু অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম নিউটন বিদেশ ভ্রমণের প্রলোভন দেখিয়ে ক্রীড়াবিদ নারীদের ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।
এছাড়াও তিনি অ্যাসোসিয়েশনের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে খেলোয়ারদের সাথে অনৈতিক কার্যকলাপে জড়ালে তারা গর্ভবতী হলে তাদের গর্ভপাত করানোর মতো ভয়ংকর কাজও করেছেন বলে জানা যায়। এমনকি তিনি অনুশীলনের আগে মেয়েদের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ঢুকে তাদের জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ ও নগ্ন ছবি তুলে রাখতেন। এসব কর্মকাণ্ডের রফিকুলকে সহায়তা করত অ্যাসোসিয়েশনের আরেক নারী খেলোয়াড়।
শনিবার সকালে জুজুৎসু অ্যাসোসিয়েশনের এক নারী খেলোয়াড় রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন দমন ও পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার (নং-৩০) প্রেক্ষিতে দুপুরে র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা এবং র্যাব-১২ এর একটি অভিযানিক দল রাজধানীর শাহ আলী ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের ঘটনার প্রধান আসামি মো. রফিকুল ইসলাম নিউটন ও তার সহযোগী ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের সাথে সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। রফিকুল ইসলাম নিউটন জুজুৎসু খেলার প্রশিক্ষক। অ্যাসোসিয়শনের বেশিরভাগ প্রশিক্ষণার্থী নারী। যেখানে অভিভাবক হিসেবে এই কোমলমতি মেয়েদেরকে এগিযে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল তার। কিন্তু সেই ব্যক্তি কোমলমতি মেয়েদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তার হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার প্রয়াস চালায়।
র্যাবের মুখপাত্র বলেন: রফিকুল অ্যাসোসিয়েশনের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে খেলোয়াড়দের সাথে অনৈতিক কার্যকলাপের ছবি তুলে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় ভীতি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে বারবার ধর্ষণ করত।
আরাফাত ইসলাম বলেন: ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করলে আসামিরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়ে আত্মগোপন করে এবং আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় র্যাব তাদের গ্রেপ্তার করে। মামলার এজাহার নামীয় দ্বিতীয় আসামি নারী খেলোয়াড়কে ইতোমধ্যে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, রফিক ও তার নারী সহযোগি অ্যাসোসিয়েশনের অন্য নারী খেলোয়াড়দের মিথ্যা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে রফিকুলের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করতো। ভুক্তভোগী নারী গত দুই বছর ধরে জুজুৎসু অ্যাসোসিয়েশনের রফিকুলের অধীনে জুজুৎসু খেলার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আসছিলেন। এ সময়ে রফিক বিভিন্ন অজুহাতে ভিকটিমকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করতন। পরে ভুক্তভোগী প্র্যাকটিস শেষে চেঞ্জিং রুমে পোশাক পরিবর্তন করার সময় গ্রেপ্তার নারী ভুক্তভোগীকে রুমের মধ্যে আটকে রেখে রফিকুল ইসলামকে ডেকে আনতেন। পরে রফিকুল ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করতো। এরপর গ্রেপ্তার নারী খেলোয়াড় রুমে প্রবেশ করে মোবাইল ফোনে ভিকটিমের নগ্ন ছবি ধারণ করতো এবং কাউকে বিষয়টি জানালে আপত্তিকর এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিতো। এভাবে রাজধানীর একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে ভিকটিমকে একাধিকবার ধর্ষণ করে রফিকুল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: জুজুৎসু অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম নিউটন এখন পর্যন্ত পাঁচজন খেলোয়াড়কে ধর্ষণ করেছেন। এ পর্যন্ত দুইজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে তারা অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।







