পেসবান্ধব কন্ডিশনে টসে জিতে বোলিং নিতে একেবারেই ভুল করেননি টেম্বা বাভুমা। প্রোটিয়া অধিনায়কের সিদ্ধান্তের প্রতিদান তার দলের পেসাররা দারুণভাবেই দিলেন। বল হাতে আগুন ঝরিয়ে প্রতিপক্ষের পাঁচ ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরালেন কাগিসো রাবাদা। স্রোতের বিপরীতে ভারতের হয়ে ব্যাট হাতে লড়ে যাচ্ছেন লোকেশ রাহুল।
সেঞ্চুরিয়নে বক্সিং ডে টেস্টে মঙ্গলবার বৃষ্টির কারণে আগেই প্রথম দিনের খেলা শেষের আগে টিম ইন্ডিয়ার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২০৯ রান। রাহুল ১০৫ বলে ১০ চার ও ২ ছকায় ৭০ ও মোহাম্মদ সিরাজ ১০ রানের খাতা না খুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন। আলোক স্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে প্রথম দিনে ৫৯ ওভারের বেশি খেলা হয়নি।
সফরকারীদের প্রথম উইকেট দ্রুতই উইকেট তুলে নেন রাবাদা। তার বলে মাত্র ৫ রান করে নান্দ্রে বার্গারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ১৭ রান করা আরেক ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল টেস্ট অভিষিক্ত নান্দ্রে বার্গারের বলে উইকেটের পেছনে গ্লাভসবন্দি হন। বার্গারের শিকার হয়ে শুভমন গিল মাত্র ২ রান করে ড্রেসিংরুমে ফিরলে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৪ রান।
টিম ইন্ডিয়ার ইনিংসের ২০তম ওভারে মার্কো জানসেনের বলে কভার ড্রাইভ মারেন বিরাট কোহলি। বলের পেছনে ছুটে যাচ্ছিলেন বাভুমা। বলটি বাউন্ডারি লাইনের কাছে পৌঁছানোর আগেই থেমে যায়। প্রোটিয়া অধিনায়ককে তাই ডাইভ দিতে হয়নি। বল ধরার পর তিনি হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন এবং মাঠেই চিকিৎসা নিয়ে কারোর সাহায্য ছাড়াই বেরিয়ে যান। ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট সিরিজ খেলতে নামা ডিন এলগার আপাতত নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েছেন।
ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাভুমা চলতি ম্যাচে আর খেলতে পারবেন কিনা, সেটি নির্ধারণের জন্য প্রতিদিন তার চিকিৎসার বিষয়ে সার্বিক মূল্যায়ন করা হবে।
শুরুর ধাক্কা সামলে চতুর্থ উইকেটে শ্রেয়াস আয়ারকে নিয়ে ৬৮ রান যোগ করেন বিরাট কোহলি। লাঞ্চ বিরতির খানিক পরই ৫০ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ৩১ রান করা আয়ারকে বোল্ড করেন রাবাদা। কোহলিও এরপর বেশিক্ষণ টেকেননি। রাবাদার বলে কাইল ভেরেয়ান্নের গ্লাভসে ধরা পড়ার আগে খেলেন ৬৪ বলে ৫ চারে ৩৮ রানের ইনিংস।
ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা রাবাদার পরের শিকার হন ৮ রান করা রবীচন্দ্রন অশ্বিন। বাউন্স বল তার গ্লাভসে লেগে তৃতীয় স্লিপে থাকা বদলি ফিল্ডার মুল্ডেলের হাতে সরাসরি চলে যায়।
শার্দূল ঠাকুরকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ৪৩ রানের জুটি গড়ে হালকা প্রতিরোধ গড়েন বুক চিতিয়ে লড়ে যাওয়া রাহুল। জুটি ভেঙে পঞ্চম উইকেটের দেখা পান রাবাদা। অভিজ্ঞ ডিন এলগারের তালুবন্দি হন ২৪ রান করা শার্দূল। এরপর মার্কো জানসেনের বলে বোল্ড হন এক রান করা জাসপ্রীত বুমরাহ।
চা বিরতির পর আলোক স্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে ৯ ওভারের বেশি খেলা হয়নি। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য এক পর্যায়ে দুই আম্পায়ার আগেই দিনের খেলা শেষের ঘোষণা দেন।
স্বাগতিকদের পক্ষে রাবাদা ৪৪ রান খরচায় নেন ৫ উইকেট। বার্গার ৫০ রানে ২টি ও জানসেন ৫২ রান খরচায় পান একটি উইকেট।








