শুদ্ধাচার নীতির ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নব নিযুক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশিদ।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্নীতির বিরুদ্ধে র্যাবের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি।
রোববার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা র্যাব সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নবাগত র্যাব মহাপরিচালক এসব কথা বলেন।
র্যাব ডিজি ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, র্যাবের প্রতি মানুষের যে আস্থা ও বিশ্বাস সেটা আমরা আরও বৃদ্ধি করতে চাই। সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনে প্রত্যেকটি ব্যাটালিয়নকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। র্যাবের প্রতিটি সদস্যকে সকল ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা বজায় রাখা, চেইন অব কমান্ড অনুসরণ এবং শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোনো র্যাব সদস্য যদি আইন বহির্ভূত কাজ করেন বা অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
র্যাব ডিজি বলেন, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এলিট ফোর্স হিসেবে র্যাব জঙ্গি ও মাদক বিরোধী কার্যক্রম, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধী ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। র্যাব মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করে আসছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র্যাব এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার এবং ৬ হাজার ৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি মূল্যমানের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
এছাড়াও, এই বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে অসংখ্য তালিকাভুক্ত অপরাধী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী যারা দীর্ঘকাল আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিল তারা ধরা পড়েছে। সুন্দরবন আজ দস্যুমুক্ত হয়েছে। জঙ্গিবাদ দমনে র্যাবের সাফল্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য। চরমপন্থি ও জলদস্যু আত্মসমর্পণে এ বাহিনী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব ডিজি বলেন, তিনটা কাজকে তিনি গুরুত্ব দেবেন। মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, উগ্রবাদ; সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন এবং কিশোর গ্যাং কালচার নির্মূল।
তিনি বলেন, মাদক নির্মুলে দরকার সামাজিক আন্দোলন। আশা করবো গণমাধ্যম পাশে থাকবে। আমি গণমাধ্যমের অংশিদারিত্ব চাই। গণমাধ্যমের ভূমিকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়। অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যমই আগে জেনে যায়।
কিশোর গ্যাং কালচারের নেপথ্যে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা তাদের ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে জানতে চাইলে র্যাব ডিজি বলেন, সাসটেইনেবল সমাজ প্রতিষ্ঠায় গ্যাং কালচারে জড়ানো কিশোরদের সংশোধন করে মূলধারায় কিভাবে আনা যায় সে চেষ্টা করবে র্যাব। আর যারা অপরাধ করে ও সহায়তা করে তারা দুপক্ষই সমান অপরাধি। অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত বলেন র্যাব ডিজি।







