কোটা সংকার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তিন দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি না মানা হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
তিন দফা দাবিতে রয়েছে, সারাদেশে গ্রেপ্তার, গুম হওয়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেয়া এবং দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ মন্ত্রী থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত যারা সহিংসতার জন্য দায়ী তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
শনিবার ২৭ জুলাই রাতে অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এই ঘোষণা দেন।
সম্মেলনে আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, রোববার ২৮ জুলাই জেলা, উপজেলাসহ সব পর্যায়ে হেলথ ফোর্স এবং লিগ্যাল ফোর্স গঠন করা হবে। তারা সারাদেশে আহত ও নিহতদের তথ্য সংগ্রহ করবেন। শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে গণহত্যা চালাচ্ছে সরকার। এখন পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সব ঘটনার দায় সরকারকেই নিতে হবে। চলমান গণহত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে তদন্তের দাবি জানাই।
তিনি বলেন, আমরা তিনটি বিষয় স্পষ্ট করছি। এর আগে ২০১৮ সালে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির পর সেটি ৬ বছরও টেকেনি। তাই পরিপত্র-পরিপত্র খেলা বন্ধ করে স্টেকহোল্ডারদের, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্বাধীন স্থায়ী কমিশন গঠন ও কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী আইন পাস করতে হবে।
পুলিশ কনস্টেবল থেকে মন্ত্রীরা যতজন শিক্ষার্থী হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদের অব্যাহতি দিয়ে আইনের আওতায় আনতে হবে। এবং যতজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে তাদের মামলা প্রত্যাহার করে গুম ও আটক শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি দিতে হবে। তা না হলে ‘বাংলা ব্লকেডের’ চেয়েও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দাবি না মানলে আরও কঠিন কর্মসূচি দেয় হবে। আমরা আর ঘরে বসে থাকবো না। রাস্তায় নেমে আসবো।
রোববার কর্মসূচি হিসেবে সারাদেশের দেয়ালগুলোতে গ্রাফিতি ও দেয়াললিখন কর্মসূচি পালন করা হবে।
গত ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদারকে আটক করে ডিবি।
এর আগে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া আন্দোলনের সাথে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও ডিবি।







