ফুটবল

ফ্রান্স-মরক্কো: পরিসংখ্যান কী বলছে?

ফ্রান্স ও মরক্কো ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা মাঠে প্রস্তুত।. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ফ্রান্স ও মরক্কো জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা মাঠে প্রস্তুত, বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুনের কিংবদন্তি ফুটবলার স্যামুয়েল ইতো জানিয়েছিলেন, শেষ চারে ফাইনালের লড়াইয়ে নামবে ফ্রান্স-মরক্কো। কাতার বিশ্বকাপের শুরুতে করা ভবিষ্যদ্বাণীটি সত্যি হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাত একটায় আল বাইত স্টেডিয়ামে নামবে দুদল। ইউরোপ-আফ্রিকার লড়াইয়ের আগে জেনে নেয়া যাক শক্তি-দুর্বলতার জায়গাগুলো। মুখোমুখি লড়াইয়েই বা কার চেয়ে কে এগিয়ে।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকা মরক্কো আফ্রিকার দেশ হিসেবে গড়ছে ভুরিভুরি রেকর্ড। এপর্যন্ত কোনো প্রতিপক্ষের কাছে একটি গোলও খায়নি, তাদের জালে গ্রুপপর্বে একবার বল জড়িয়েছিল— সেটিও নিজেদের ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে। অ্যাটলাসের সিংহরা আফ্রিকার ইতিহাসের প্রথম দেশ হিসেবে এসেছে সেমির মঞ্চে। ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে পারলে কোনো আফ্রিকান দেশ হিসেবেও সেটিও প্রথম হবে।

ফ্রান্স-মরক্কো ১১ বার মুখোমুখি হয়েছে। অফিসিয়ালি পরিসংখ্যানে সংখ্যাটি চার ম্যাচের, বাকিগুলো ছিল আনঅফিসিয়াল ম্যাচ। এগিয়ে ফরাসিরা, চারটির দুটিতে জয় তুলেছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, বাকি দুটি হয়েছে ড্র। সবশেষ ২০০৭ সালে দেখায় ২-২ গোলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল। বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে এবারই প্রথম একে-অন্যের বিপক্ষে লড়বে হাকিমি-এমবাপেদের দেশ।

হিসেবে আসা ছাড়াও আরও সাতবার দেখা হয়েছে ফ্রান্স-মরক্কোর। সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকে সেই খেলাগুলো আনঅফিসিয়ালি খেলেছিল দুদল। মজার বিষয় হচ্ছে প্রথম দেখাতেই ১৯৬৩ সালে জয় তুলে নিয়েছিল মরক্কো। দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে ইতিহাস গড়া আফ্রিকার দলটি আধিপত্য ধরে রেখে আরেকটি প্রথম আনতে পারে কিনা সেটিই দেখার।

শক্তি-সামর্থ্য কিংবা ইতিহাস, সবদিক থেকে এগিয়ে অবশ্য ফ্রান্স। কাতারের পারফর্ম বিবেচনায় মরক্কোকে সমীহ করতে হচ্ছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যদের। ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপ অভিষেকের পর ১৯৮৬ সালে আফ্রিকার প্রথম দেশ হয়ে গ্রুপপর্ব পার করেছিল মরক্কো। এবার ছাড়িয়ে গেছে আগের সব সাফল্য, সামনে একটি মাত্র ধাপ। পেরোতে পারলেই ইতিহাসের উচ্চতা লিখবে অ্যাটলাস পর্বতের সিংহরা।

১৯৩০ সালে উদ্বোধনী আসরে খেলা ১৩ দলের একটি ফ্রান্স। এ নিয়ে বিশ্বসেরার মঞ্চে ১৬ বার খেলছে দুবার শিরোপা জেতা দলটি। ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম শিরোপাধারী দল হিসেবে সেমিফাইনালে খেলতে যাচ্ছে তারা। আরও একটি রেকর্ডের সামনে হুগো লরিসের দল, ২০০২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুই আসরে ফাইনালে খেলার হাতছানিও তাদের। রয়েছে টানা দুবার বিশ্বকাপ জেতা দল ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) ও ব্রাজিলের (১৯৫৮ ও ১৯৬২) রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগও।

সপ্তমবারের মতো সেমির মঞ্চে এসেছে ফ্রান্স। আগের ছয়বারের প্রথম তিনবার (১৯৫৮, ১৯৮২ ১৯৮৬) শিরোপার মঞ্চে উঠতে ব্যর্থ হলেও পরের তিনবার ভুল করেনি তারা। ১৯৯৮, ২০০৬ সালের পর ২০১৮ সালেও ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল ফরাসিরা। কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে শেষ ম্যাচটি হেরে গেলেও বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা আছেন দোর্দণ্ড দাপুটে। অন্যদিকে, শেষ ৬টি ম্যাচের তিনটিতে জয় ও বাকি তিনটিতে ড্র করে যোগ্য দল হিসেবে শেষ চারে এসেছেন হাকিমি-জিয়েচরা।

দিদিয়ের দেশমের ফ্রেঞ্চ শিষ্যদের ফেভারিট ‘না’ ভাবার কোনো সুযোগই দেননি এমবাপে-জিরুদরা। চোট জর্জরিত দলটি গ্রুপপর্বে দাপুটে খেলে নিশ্চিত করে শেষ ষোলো। লেভান্ডোভস্কির পোল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে পড়ে আরেক ফেভারিট ইংল্যান্ডের সামনে। তাতে হাড্ডাহাড্ডি লড়ে শেষ চারে জায়গা পাকা করেছে ফ্রান্স।

অ্যাটলাস পর্বতের সিংহ মরক্কো আসরজুড়েই দেখিয়ে চলেছে দাপট। বিদায় করে দিয়েছে বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালের মতো ফেভারিটদের। দুর্দান্ত ফুটবল খেলা দেশটি গ্রুপপর্বে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগির পর হারিয়েছে কানাডা ও বেলজিয়ামকে। শেষ ষোলোতে স্পেনকে টাইব্রেকারে থামিয়ে দিয়েছে ইয়াসিন বোনোর দল। শেষ আটে কাঁদিয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে।

বিষয়:ইতো এমবাপে কাতার বিশ্বকাপ-2022 জিরুদ ফিফা বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা ফিফা বিশ্বকাপ ফ্রান্স

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…