মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ জ্যারেড কুশনার ও তার বিনিয়োগ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি বিলাসবহুল পর্যটন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে আলবেনিয়ায় বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার ২ জুন আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় হাজারো মানুষ দ্বিতীয় দিনের মতো রাস্তায় নেমে আসেন। তারা স্ক্যান্ডারবেগ স্কয়ার থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত মিছিল করেন এবং পরিকল্পিত প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, সংরক্ষিত পরিবেশগত এলাকা ধ্বংস করে বড় আকারের নির্মাণকাজ চালানোর পথ খুলে দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, এ ধরনের প্রকল্প পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
প্রতিবাদকারীরা আলবেনিয়া আলবেনীয়দের এবং ভিয়োসা-নার্তায় হাত দিও না লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং স্লোগান দেন।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ভিয়োসা-নার্তা উপকূলীয় সংরক্ষিত এলাকা এবং অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের নির্জন সাসান দ্বীপে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ৬১৮ একর এলাকা জুড়ে বিলাসবহুল পর্যটন গন্তব্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া পরিবেশকর্মী ক্লাজদি বেলো বলেন, নার্তা লেগুন এলাকায় কার্যত একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকলেও, কোনো পরামর্শ বা স্বচ্ছতা ছাড়াই সেখানে নির্মাণকাজ চলতে দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দাবি করছে, এই প্রকল্পটি আলবেনিয়ার সবচেয়ে সংবেদনশীল উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। পাশাপাশি গ্রিক সংখ্যালঘু পরিবারের মালিকানাধীন সম্পত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সপ্তাহান্তে প্রকল্পস্থলে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় পেপার স্প্রে ব্যবহারের ফলে বিক্ষোভকারী ও কিছু পুলিশ সদস্যও প্রভাবিত হন।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কোম্পানি জানিয়েছে, ঘটনাটিতে জড়িত কয়েকজন কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এই প্রকল্প এখন রাজনৈতিক বিতর্কেও রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগ দাবি করে অভিযোগ তুলেছেন, সরকার ২০২৪ সালে সংরক্ষিত এলাকা সংক্রান্ত আইনি পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী রামা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, প্রকল্পটি আইন ও পরিবেশগত বিধি মেনেই এগোচ্ছে।
আলবেনিয়া সরকার দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চমানের পর্যটন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল হিসেবে বিলাসবহুল পর্যটন প্রকল্পকে উৎসাহ দিয়ে আসছে।








