পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান বিক্ষোভ দমনে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেছেন, পিওকের বিক্ষোভকারীদের তিনি ‘ভারতের মতোই শত্রু’ হিসেবে দেখেন।
বুধবার ২৯ জুলাই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এক্সে (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খাজা আসিফকে বলতে শোনা যায়, আমি আজাদ কাশ্মীরের বিক্ষোভকারীদের ভারতের সমকক্ষ হিসেবে দেখি এবং তাদেরও ভারতের মতোই শত্রু বলে মনে করি। এ মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন পিওকের রাওয়ালকোট ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত দুই দিনে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৩২ জন কাশ্মীরি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত ৯০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, মিরপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালাচ্ছেন। কিছু ভিডিওতে নিহতদের মরদেহ নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে তোলা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের অধিকাংশই জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংগঠনটির দাবি, ইসলামাবাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। নিহতদের মধ্যে জেএএসির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য উমর নাজিরের ছোট ভাই উসমান নাজিরও রয়েছেন।
জেএএসি তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে দাবি করেছে, রাওয়ালকোটে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনী গুলি চালিয়েছে। সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে, মিরপুরে তাদের তরুণ সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং পাকিস্তানি গণমাধ্যম ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে। জেএএসির ভাষ্য, তারা কারও এলাকায় জোর করে প্রবেশ করেনি; বরং রাওয়ালকোট তাদের নিজস্ব ভূমি, যেখানে শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
এদিকে পাকিস্তান সরকার বা নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জেএএসির এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।







