যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। এ নিয়ে হইচই পড়েছে বিশ্বজুড়ে। গত শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি এপস্টেইন সম্পর্কিত প্রায় ত্রিশ লাখ পাতা নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
নথি উন্মোচনের পর রীতিমতো হইচই পড়ে গেছে ভারতেও। কারণ বেশকিছু নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম এসেছে। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছে ভারত।
এদিকে, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে নিজ দেশে তীব্র সমালোচনার মধ্যে আছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন। এ ঘটনায় অ্যান্ড্রু তার ‘প্রিন্স’ উপাধি হারিয়েছেন। তাকে ছাড়তে হবে উইন্ডসরে বরাদ্দ দেওয়া রাজকীয় বাসভবন ‘রয়েল লজ’ও।
বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেছেন, জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি ও কর্মকাণ্ডের তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সহযোগিতা করা উচিত।
শনিবার জাপান সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্টারমার বলেন, “যাদের কাছে তথ্য আছে, তাদের সেই তথ্য যেভাবে চাওয়া হবে, সেভাবেই দিতে প্রস্তুত থাকা উচিত।”
স্কাই নিউজের বরাতে তিনি আরও বলেন, “তথ্য দিতে রাজি না হলে ভুক্তভোগীদের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার কথা বলা যায় না। এপস্টেইনের ভুক্তভোগীরাই হওয়া উচিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
প্রিন্স অ্যান্ড্রু ক্ষমা চাইবেন কি না, জানতে চাইলে স্টারমার বলেন, বিষয়টি “অ্যান্ড্রুর নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়”।
ধনী অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বিরুদ্ধে যৌন পাচারের অভিযোগ ছিল।
নথিগুলোতে আরও দেখা যায়, এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন, নিউইয়র্ক জায়ান্টস দলের সহ-মালিক স্টিভ টিশসহ রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও দাতব্য জগতের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির। তালিকায় বিল গেটস ও ইলন মাস্কের নামও রয়েছে।
অন্যদিকে, নথি প্রকাশের পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এপস্টেইনের কয়েকজন ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন নথিগুলোতে নির্যাতিতদের পরিচয় সহজে শনাক্ত করা যাচ্ছে, কিন্তু এপস্টেইনের অপরাধে সহযোগীদের বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ভুক্তভোগী হিসেবে আমাদেরই যেন বারবার প্রকাশ্যে আনা, খুঁটিয়ে দেখা ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে, অথচ এপস্টেইনের সহযোগীরা গোপনীয়তার সুবিধা পাচ্ছে।”







