কক্সবাজার শহরে পূর্ব কলাতলী ঝিরিঝিরি পাড়াত পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে গৃহবধূ নিহত এবং তার স্বামী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝরঝরি পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রোজিনা বেগম (৩০) একই এলাকার আব্দুল মজিদের স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আব্দুল মজিদ (৩৭) সামান্য আহত হয়েছেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, আব্দুল মজিদ ও তার স্ত্রী রোজিনা বেগম রাতে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাতে সাড়ে ৯ টার দিকে রোজিনা পাহাড়ের খাদের নিচে থাকা রান্না ঘরে খাবারের পাতিল আনতে যান। এসময় আকস্মিক পাহাড়ধসে বড় একখন্ড মাটি রান্না ঘরের উপর পড়ে। এসময় মুহূর্তেই তিনি মাটিচাপা পড়েন। তার স্বামী রান্না ঘরের পাশের ঘরে থাকায় সামন্য আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। তবে রোজিনার সন্তান ও শ্বশুর অন্য ঘরে থাকায় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান।
স্থানীয় সমাজ প্রতিনিধি মুফিজুর রহমান জানান, ঘটনার সময় তিনি স্থানীয় একটি দোকানে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ চিৎকার শোনার পাশাপাশি খবর পান মজিদের ঘরে তার স্ত্রী মাটিচাপা পড়েছেন। খবরটা শোনার সাথে সাথে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দিলে তারাও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টার পর রোজিনা বেগমকে মৃত উদ্ধার করা হয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক ছৈয়দ মো. মোরশেদ হোসাইন বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মাটিচাপা পড়া ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার করার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
টানা বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ নিয়ে গত ৪ জুলাই থেকে টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ধস ও ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে জেলায় রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৯ জনে।







