আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও খাতে কর, শুল্ক ও ভ্যাট বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে সরকার। এর ফলে বেশ কিছু ভোগ্যপণ্য, আমদানিনির্ভর পণ্য এবং বিলাসপণ্যের দাম বাড়াতে পারে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি থাকতে পারে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্য
সিগারেটের সব স্তরের মূল্যসীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচ, সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামাল এবং নিকোটিনের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ফলে সিগারেটসহ বিভিন্ন নিকোটিনজাত পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
প্রস্তাবিত মূল্যসীমা অনুযায়ী নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম হতে পারে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরের ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৬০ টাকা এবং অতি-উচ্চ স্তরের ২১০ টাকা।
অ্যালকোহল
দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে এ ধরনের পণ্যের বাজারমূল্য বাড়তে পারে।
কাজুবাদাম
আমদানিকৃত কাজুবাদামের ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বাজারে কাজুবাদামের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হিমায়িত মাছ
উচ্চমূল্যের আমদানিকৃত হিমায়িত মাছের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এতে এসব মাছের খুচরা দাম বাড়তে পারে।
রড ও নির্মাণসামগ্রী
মাইল্ড স্টিল (এমএস) রড এবং সংশ্লিষ্ট নির্মাণসামগ্রীর উৎপাদন পর্যায়ে কর ও ভ্যাট প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। এর প্রভাব নির্মাণ ব্যয়েও পড়তে পারে।
বিলাসী ও আমদানিনির্ভর পণ্য
বিদেশি প্রসাধনী, বিলাসপণ্য, উচ্চমূল্যের আমদানিকৃত খাদ্যপণ্য এবং নতুন আরও ১০ ধরনের পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।







