ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উদ্যোগে বাসমালিক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে জননিরাপত্তা ও সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া এ সভায় ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন রুটে চলমান পরিবহনের মালিকগণসহ অন্যান্য অংশীজনবৃন্দ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন। অগ্নি-সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধে বিভিন্ন পরিবহন মালিকগণ তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম।
ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ পরিবহন মালিকগণসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অগ্নি- সন্ত্রাস, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগে দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন বাস্তবমুখী পরামর্শ দেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সকলকে উদ্যোমী হয়ে সহযোগিতার আহবান জানান।
সমন্বয় সভায় তিনি যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে ও নাশকতা প্রতিরোধে নিম্নোক্ত বিষয়াদি গুরুত্বসহকারে বাস্তবায়নের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন:
১. ডিজিটালাইজেশন কাজে লাগিয়ে ড্রাইভার হেল্পারদের প্রতিটি স্টপেজে ভিডিও ধারণ ও ছবি তুলে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে, বাসগুলোতে সিসিটিভি ইন্সটল করা যায় কিনা তা বিবেচনার জন্য পরামর্শও দেন ।
২. গাড়ির হেলপার ও সহযোগীকে মোবাইল ক্যামরার মাধ্যমে বাসে যাত্রীদের ছবি ও ভিডিও ধারণের মাধ্যমে সকলকে সচেতন করা। ‘অপরিচিতদের কাছ থেকে কিছু খাবেন না, পাশেরজন সম্পর্কে সচেতন থাকুন’- রাস্তাঘাটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোর এটি একটি অতি পরিচিত কার্যকর সনাতন পদ্ধতি। এই পদ্ধতি অবলম্বন করেই হেল্পাররা মাঝেমাঝে যাত্রীদের সচেতনমূলক বক্তব্য প্রদান করার মাধ্যমে সম্ভাব্য দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করবে, নাশকতাকারীদের প্রমাণাদি রাখবে এই পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন।
৩. রাত ও ভোর বেলার যাত্রীহীন যানবাহনই দুষ্কৃতিকারীদের টার্গেট। এই বিষয়ে সবাইকে সর্তক করে রাত্রীকালীন নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি সারাক্ষণ নজরদারি রাখার নির্দেশনা দেন ।
৪. সকল গাড়িতে অবশ্যই অগ্নি নির্বাপক রাখা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে চালক ও হেল্পারদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে পরিবহন মালিকগণকে দায়িত্ব পালন করতে পরামর্শ দেন।
৫. কোন যানবাহন যাতে দুই একজন যাত্রীর আশায় ফাঁকা রাস্তায় না দাঁড়ায় সেই বিষয়ে সর্তক করার পাশাপাশি পুলিশ ডিউটিরত জায়গায় যাত্রী উঠানামা করার পরামর্শ দেন।
৬. সামনের ও মাঝখানের সিট ফাঁকা রেখে কেউ যাতে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছনে না বসে সেই বিষয়ে সর্তক করার পাশাপাশি সন্দেহজনক মনে হলে অতিদ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য পরামর্শ দেন।
৭. নির্দিষ্ট স্টপেজ ব্যতীত যাত্রী না উঠানোর পরামর্শ দেন।
৮. জরুরী প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার আহবান জানান।







