ফেনীর সোনাগাজীতে ‘পরকীয়া প্রেমের’ জেরে প্রেমিক যুগলকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে মারধর ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে ফেসবুক ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে নির্যাতনের শিকার প্রেমিক এরশাদ উল্যার পিতা আবু সুফিয়ান বাদি হয়ে মামলা দায়েরের পর মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পৌরশহরের আট নস্বর ওয়ার্ডের হালিম ডাক্তার বাড়ির ওমর ফারুকের ছেলে স্থানীয় শিবির নেতা শাহজালাল বাবর, একই এলাকার সৈয়দ আহম্মদের ছেলে হাসান ও আবু বক্কর ছিদ্দিকের স্ত্রী শুক্করের নেছা।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গত সোমবার গভীর রাতে পৌর শহরের আট নাম্বার ওয়ার্ডের হালিম ডাক্তার বাড়ির মাদ্রাসা শিক্ষক নুর আলমের স্ত্রী কামরুন ও এরশাদ উল্যাহকে হাতেনাতে ধরে স্থানীয় এলাকাবাসী। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের বাড়ির বৈদ্যুতিক খুটির সাথে বেঁধে মারধর করে জুতার মালা পরিয়ে দেয়। ওই ঘটনার ভিডিও স্থানীয় কয়েকজন ফেসবুকে ছেড়ে দিলে ভাইরাল হয়।
ঘটনার পর এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে মাদ্রাসা শিক্ষক নুর আলম তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর স্থানীয় জনতা প্রেমিক যুগলকে গত মঙ্গলবার বিকালে পুলিশে সোপর্দা করে। পরদিন পুলিশ অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের করে ফেনীর আদালতে সোপর্দ করে।
বুধবার রাতে জরিমানা দিয়ে আদালত থেকে মুক্তি পেয়ে মিথ্যা অভিযোগে তাদেরকে নির্যাতন করা হয়েছে দাবি করে স্থানীয় গনমাধ্যমে বক্তব্য দেন। পরে তারা বিয়ে করেছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, এরশাদ উল্লাহ চরছান্দিয়া ইউনিয়নের ভুঁইয়া বাজার সংলগ্ন অলি মাঝি বাড়ির বাসিন্দা। তিনি দুই সন্তানের জনক। অপরদিকে কামরুন নাহারের ৪ সন্তান রয়েছে। ছোট সন্তানের বয়স ৭ মাস।
বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে তালাক দেওয়া স্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা অঅিযোগ এনে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি চেয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষক নুর আলম। তিনি গ্রামবাসী হয়রানী না করতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্কমর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, মামলা দায়েরের পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার বিকালে ফেনীর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপর অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।









