চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘অটো পাস’ বললে রাগ হয় দীঘির!

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘ দিন দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রেডের ভিত্তিতে ‘অটো পাস’ দিয়েছে সরকার। বিশেষ পরিস্থিতিতে, বিশেষ বিবেচনায় সরকারের এমন সিদ্ধান্ত।

তবু কেউ কেউ ‘অটো পাস’ পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে মজা করে কথা বলেন, যা অযৌক্তিক বলে মনে করেন চিত্রনায়িকা ও চলতি বছরে এইচএসসি পরীক্ষার্থী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি।

আসছে ডিসেম্বরের ২ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি অংশ নেবেন এই পরীক্ষায়। প্রসঙ্গক্রমেই ‘অটো পাস’ নিয়েও কথা বলেন ‘তুমি আছো তুমি নেই’ ছবির এই নায়িকা।

দীঘি বলেন, কোভিডের কারণে সরকার গতবছরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের অটো পাস দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই মশকরা করেন! এটা ঠিক না। বিশেষ পরিস্থিতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে এটা হয়তো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তই ছিলো, কিন্তু এটা নিয়ে মজা করা একদমই ঠিক না।

সম্প্রতি স্টার সিনেপ্লেক্সে চরকি’র ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ ফিল্মের প্রদর্শনীতে উপস্থিত থেকে দীঘি বলেন, ‘বিভিন্নজন বলে থাকে অমুকে অটো পাস। এই অটো পাস বলা অযৌক্তিক লাগে।’

দীঘি আরও বলেন, শুটিং বন্ধ থাকলে অনেকদিন পর শুটিংয়ে গেলে ক্যামেরার সামনে আন-ইজি লাগে। পরীক্ষাও অনেকদিন পর হলে একই ফিলিংস হয়। যারা অটো পাস পেয়েছে এটা খারাপ কিছু না। অবস্থা, পরিস্থিতি বুঝতে হবে সবাইকে।

বিজ্ঞাপন

স্কুল কলেজ খোলায় জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরেছে উল্লেখ করে দীঘি বলেন, স্কুল কলেজ খোলা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার একটি ধাপ। সবাই আবার ক্লাসে হাজির হচ্ছে। তাই আমি মনে করি পৃথিবী সুস্থ হওয়ায় এবার পরীক্ষা হবে।

সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি রাজধানীর স্টামফোর্ড কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ছেন দীঘি। আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

দীঘি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা নিকটে। এর আগে চাইছি না সিনেমায় ব্যস্ততা থাকুক। ‘শ্রাবণ জোসনা’ সিনেমার কিছু কাজ বাকি। পরীক্ষা দিয়ে বাকি কাজ শেষ করবো।

২০১৯ সালে স্ট্যামফোর্ড স্কুল ও কলেজ থেকে সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেন দীঘি।

চলচ্চিত্র পরিবারের সন্তান দীঘির বাবা সুব্রত বড়ুয়া ও মা প্রয়াত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী দোয়েল। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগে গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘কাবুলিওয়ালা’ তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র।

প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেই ২০০৬ সালে ‘শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী’ হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এরপর দাদীমা, চাচ্চু, বাবা আমার বাবা, ১ টাকার বউ ও অবুঝ শিশুর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শক মনে জায়গা করে নেন। নায়িকা হিসেবে তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সিনেমা দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘তুমি আছো তুমি নেই’।

বিজ্ঞাপন