ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের একজন চলচ্চিত্র পরিচালক প্রদীপ কুরবাহ। আঞ্চলিক একজন নির্মাতা হিসেবে তার কিছুটা পরিচিতি আছে। তার হাত ধরেই খাসি ভাষার চলচ্চিত্র ভারতে কিছুটা পরিচিত হতে শুরু করেছে। সেই নির্মাতার হাত ধরেই যে ভারতে আসবে মস্কোর সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পুরস্কার, সেটা কে জানতো!
সেই অসম্ভবই সম্ভব করলেন প্রদীপ। খাসি সিনেমাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক লহমায় পরিচিত করে দিলেন তিনি। তার নির্মিত ‘দ্য ইলিসিয়ান ফিল্ড’ মস্কো উৎসবের প্রধান পুরস্কার ‘গোল্ডেন সেন্ট জর্জ’সহ ‘সিলভার সেন্ট জর্জ’ পুরস্কারটিও ভাগিয়ে নেয়। উৎসবে ‘সেরা নির্মাতা’-কে দেয়া হয় সিলভার সেন্ট জর্জ অ্যাওয়ার্ড।

এই চলচ্চিত্রটি গ্রামীণ জীবনের নিঃসঙ্গতা, মানবিক সম্পর্ক এবং টিকে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত। এটি সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক এবং সেরা এশীয় চলচ্চিত্রের জন্য নেটপ্যাক (NETPAC) পুরস্কারসহ মোট তিনটি পুরস্কার জিতেছে।
এমন প্রাপ্তিতে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত প্রদীপ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন নিজস্ব অনুভূতি। লিখেছেন,“আমি আপ্লুত, বিনম্র এবং কৃতজ্ঞতায় পরিপূর্ণ।”
প্রদীপ লিখেছেন,“দিনটা শুরু হয়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপূর্ব চমক দিয়ে—এটি নেটপ্যাক পুরস্কার পেয়েছে এশিয়ার সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে। আর এখানেই শেষ নয়—ছবিটি জিতেছে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় সেরা চলচ্চিত্র এবং সেরা পরিচালক পুরস্কার! এই মুহূর্তে যা অনুভব করছি, তাকে ‘স্বপ্নপূরণ’ বললেও যেন কম বলা হয়।”

পুরস্কার প্রাপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রদীপ কুরবাহ লিখেন,“আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই বিচারকদের, আমাদের চলচ্চিত্রটিতে বিশ্বাস রাখার জন্য। এবং উৎসবের কিউরেটরদের প্রতি, এই গল্পকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিঃশ্বাস নেওয়ার এবং নিজের পরিচয়ে দৃশ্যমান হওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য। মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবকে হৃদয় থেকে ধন্যবাদ, আমাদের চলচ্চিত্রটিকে এতটা উষ্ণতা এবং ভালোবাসা দিয়ে গ্রহণ করার জন্য।”
“এই পুরস্কার শুধু আমার একার নয়—এটি সেই অসাধারণ টিমের প্রাপ্য, যারা এই চলচ্চিত্রের পেছনে কাজ করেছে—প্রত্যেক অভিনেতা, টেকনিশিয়ান ও ক্রু মেম্বার, যারা তাঁদের অন্তরের সবটুকু ঢেলে দিয়েছেন এই যাত্রায়। তোমরা সবাই এই সিনেমার প্রাণ। আমার প্রতি বিশ্বাস রাখার জন্য, এই দৃষ্টিভঙ্গির পাশে দাঁড়ানোর জন্য, এবং সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ “

সবশেষে প্রদীপ লিখেছেন,“আর সবশেষে, এই পুরস্কার মেঘালয়র জন্য—তার মানুষ, তার গল্প, তার আত্মা। তোমরা স্থানীয় সিনেমাকে যেভাবে সমর্থন করো, তা-ই আমাদের স্বপ্ন দেখতে শেখায়, ঝুঁকি নিতে সাহস জোগায়, এবং এমন গল্প বলতে অনুপ্রাণিত করে—যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।”








