রাজধানীতে ৮৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে এবারের দুর্গাপূজায় বড় ধরনের কোনো নাশকতার শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীর মোট ২৫৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সার্বিক বিচারে এবার বড় ধরনের কোনো নাশকতার আশঙ্কা না থাকলেও কিছু মণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব মণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রোববার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজার নিরাপত্তা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি। কমিশনার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে সাধারণ পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, সিটিটিভি, সাইবার ইউনিট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ও সোয়াট টিম মোতায়েন থাকবে।
রাজধানীর প্রতিটি পূজামণ্ডপে চব্বিশ ঘন্টার নিরাপত্তা নিশ্চিতে চারস্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে পুলিশ সদস্য, ডিএমপির গোয়েন্দা সদস্য ও বিশেষ ইউনিটগুলো নিয়োজিত থাকবে। এছাড়াও প্রতিটি থানার টহল দল এবং ডিএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও নিরাপত্তা তদারকিতে থাকবেন।
তিনি বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে পূজামণ্ডপে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে ২৪ ঘণ্টা পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোর শ্রেণি মোতাবেক প্রত্যেকটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে সর্বনিম্ন ১১ জন থেকে সর্বোচ্চ ৫০ জন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন আছে। নিজ নিজ এলাকায় নিয়মিত টহল ও চেকপোস্টের বাইরে প্রায় ২ হাজার ২০০ পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মণ্ডপের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য পৃথক ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের দিনও পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিসর্জন শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত আরও ২ হাজার ৪০০ ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকরাও নিরাপত্তায় সহায়তা করবেন।
মন্দির ও প্রতিমা নিরাপদ রাখতে পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতি রাতে কমপক্ষে দুইজন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রাখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, ভক্তরা রাতে চলে যাওয়ার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এ ব্যবস্থা জরুরি, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে।








