নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর ‘মার্চ ফর খিলাফত’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিলে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়েছে পুলিশ। এরপর মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় থেকে এ মিছিল শুরু হয়।
মিছিলটি পল্টন থেকে বিজয়নগরের দিকে এলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। তবে তার আগে প্রায় ১৫ মিনিট নির্বিঘ্নে মিছিল করে নিষিদ্ধ এই সংগঠন। পরে অবশ্য পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়লে এক দফা ছত্রভঙ্গ হরে যায় হিযবুত তাহরীরের কর্মীরা।
পরে আবার একত্রিত হয়ে মিছিল শুরু করার চেষ্টা চালায় তারা। তখন আবারও কয়েকরাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এসময় হিজবুত তাহরীরের কর্মীদেরও ইট পাটকেল ছুঁড়তে দেখা গেছে। মিছিল থেকে কয়েকজনকে আটক করতেও দেখা গেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ তালেবুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মসূচি সফল হতে দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এরআগে সকাল থেকেই নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ‘মার্চ ফর খিলাফাত’ কর্মসূচি ঘিরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে যারা ভেতরে প্রবেশ করেছেন তাদের অনেকের শরীর ও ব্যাগ তল্লাশি করতে দেখা গেছে।
দুপুরে জুমা পূর্ববর্তী ও পরের সময়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় এই চিত্র দেখা যায়। হিযবুত তাহরীরের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থাকায় পল্টন মোড় থেকে বায়তুল মোকাররমের চতুর্দিকের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ অবস্থান ছিল। সে সময় কয়েকটি জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সেনাবাহিনীকে অবস্থান করতে দেখা যায়।
মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত জুমার দিনে ১১টার পর থেকেই অনেকে বায়তুল মোকাররমে আসতে থাকেন। আজও নামাজ শুরুর আগেই অনেকে এসেছেন জাতীয় মসজিদে। প্রতি শুক্রবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকে বায়তুল মোকাররমে। কিন্তু হিযবুত তাহরীরের কর্মসূচির কারণে অন্যান্য জুমাবারের তুলনায় আজ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেকটা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তর জানায় হিজবুত তাহরীরের সব কার্যক্রম শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পুলিশ সদরদপ্তরের বার্তায় বলা হয়, হিযবুত তাহরীর একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন। আইন অনুযায়ী এদের সব কার্যক্রম শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত যেকোনো সংগঠনের কার্যক্রম দণ্ডনীয় অপরাধ। এর আওতায় হিযবুত তাহরীরের সভা, সমাবেশ, মিছিল, পোস্টার-লিফলেট বিতরণ বা প্রচারের যেকোনো প্রচেষ্টা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি বিবেচনায় সরকার ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর থেকে সংগঠনটির যেকোনো কার্যক্রম বেআইনি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর যেকোনো প্রচারণামূলক কার্যক্রম কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তা দমনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে গোপনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসা সংগঠন হিযবুত তাহরীর গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন থেকে অনেকটা প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছে। নানা দাবিতে মিছিলের পাশাপাশি ঢাকায় গোলটেবিল বৈঠকও করেছে সংগঠনটি। চট্টগ্রামেও পালন করেছে নানা কর্মসূচি।








