দেশে প্রথমবারের অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘পিএইচএ গ্লোবাল সামিট ২০২৪’। এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুধু বাংলাদেশে নয়; দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্রথম। ৯ দিনের এই সম্মেলনে ২ হাজারের অধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গবেষক এবং শিক্ষাবিদ অংশগ্রহণ করবেন।
গতকাল (১৮ ফেব্রুয়ারি) রোববার রাজধানী তেজগাঁওয়ে হোটেল হলি ডে ইন-এ অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আয়োজক প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেটারি হেলথ একাডেমিয়া (পিএইচএ) এর চেয়ারপারসন ডা. তাসবিরুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন পিএইচএ’র ট্রাস্টি ডা. জাকেরুল্লাহ ও ওমর শরীফ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গাইনোকোলজিস্ট ডা. রেহানা ইয়াসমিন জামান, লিভার বিশেষজ্ঞ ডা.আশরাফ মালিক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ আসিফ আরাফাত সিদ্দিক।
প্ল্যানেটারি হেলথ একাডেমিয়া (পিএইচএ) এর চেয়ারম্যান ডা. তাসবিরুল ইসলাম বলেন, পিএইচএ হলো বাংলাদেশি ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভুদ চিকিৎসক, গবেষক এবং শিক্ষাবিদদের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা সংগঠন। করোনাকালীন এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সাড়ে তিন বছর ধরে সুনামের সঙ্গে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে পিএইচএ।
তিনি বলেন, সম্প্রতি এক অভিনেতার হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুও প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তাকে যদি কেউ সিপিআর দিতো তাহলে তার কিন্তু বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। জানা থাকলে এই সিপিআর যে কেউই দিতে পারেন। সেজন্য আমরা চাচ্ছি এই বিষয়গুলো সকলকে জানতে, সচেতন করতে। মানুষ সচেতন থাকলে অনেক ধরনের রোগ প্রতিরোধ সম্মব। আমাদের মেডিক্যাল চিকিৎসার শিক্ষাক্রমে যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। উন্নত দেশগুলোর তুলনায় আমাদের মেডিক্যাল শিক্ষা চার থেকে পাঁচ বছর পিছিয়ে রয়েছে। একারণে সম্প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। আমরা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে মিলে কারিকুলাম উন্নয়নের চেষ্টা করছি। আশাকরি ৪-৫ বছরের মধ্যে একটি কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারবো।
বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য সেবায় পিছিয়ে বাংলাদেশ। বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। মূলত স্বাস্থ্য সেক্টরে বাজেট অস্বাভাবিক কম হলে কাঙ্খিত সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে বাংলাদেশ অনেক দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে। অর্থনীতির কলেবর বেড়েছে। আশা করছি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যেসব দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। দেশের রোগীরা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যায়। আমাদের প্রত্যাশা আমরা যেভাবে কাজ করছি সকলের সহযোগিতা পেলে বিদেশ থেকে রোগীরা এদেশে চিকিৎসা নিতে আসবে। আমাদের যেতে হবে না।
ঢাকার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে সামিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫ টায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি থাকবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। আগামী ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে সম্মেলনের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলন শুরুর আগে ১৮, ১৯, ২০, ২২, ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৫টি সম্মেলন পূর্ববর্তী কোর্স অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের পরে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে আরও তিনটি কোর্স। দেশের বৃহৎ কয়েকটি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে হতে যাওয়া লাইভ সেশনগুলোতে দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কাছে নবীন চিকিৎসকগণ নানা জটিল বিষয়ে হাতে কলমে শেখার সুযোগ পাবেন।







