জীবন, সংগ্রাম ও হতাশার বিপরীতে আশাবাদের গল্প তুলে ধরেছেন সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আলোকচিত্র, তথ্যচিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের অনুসন্ধান ও গল্প বলার কাজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী প্রদর্শনী।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।
‘স্লো জার্নালিজম: রিসার্চ অ্যান্ড স্টোরিটেলিং ইন ননফিকশন রাইটিং’ প্রকল্পের আওতায় গত আট মাস ধরে কাজ করেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্ব হিসেবে তাদের তৈরি আলোকচিত্র, তথ্যচিত্র ও অন্যান্য কাজ প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
প্রদর্শনীতে বিভাগের সাত শিক্ষার্থীর কাজ স্থান পেয়েছে। তারা হলেন তাবাসসুম মনির জিনিয়া, ইয়ারুন নেসা সারা, ইসরাত জাহান হ্যাপী, হুমায়রা কবীর প্রাপ্তি, জুবাঈদা নাসরিন, মোহাইমিনা খাঁন ও রাহিমা নেসা স্নেহা।
উদ্বোধনের পর প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. পারভীন হাসান, আলোকচিত্রী ও দৃক-এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
ড. পারভীন হাসান বলেন, ‘সাংবাদিকতা সমাজকে তুলে ধরার একটি বড় শক্তি। সাংবাদিকদের ভূমিকা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শিক্ষার্থীরা এ পেশায় দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের গড়ে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দৃক-এর সহযোগিতায় বড় মাপের এ কাজটি সম্ভব হয়েছে। আমাদের পাশে থাকার জন্য তাদের আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
আলোকচিত্রী ও দৃক-এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের কাজগুলো পেশাদার মানের হয়েছে এবং এমন উন্নত মানের কাজ আরও বড় পরিসরে প্রদর্শিত হওয়া দরকার।
তিনি বলেন, ‘আগেও আমি এখানে এসে তাদের প্রাথমিক কাজগুলো দেখেছি। শুরু থেকেই দেখেছি, তাদের কাজগুলো বেশ ভালো। আমরা অনেক সময় বড় প্রদর্শনীগুলো যে করি, সেখানে নারী সাংবাদিকদের কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকে না। আমার মনে হচ্ছে এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে এই জায়গাটি পূরণ করবে।’
জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারপার্সন সজীব সরকার বলেন, গণমাধ্যমে কে কার আগে খবর প্রকাশ করবে, এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতা বেড়েছে। দ্রুত খবর দিতে গিয়ে অনেক সময় সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা উপেক্ষিত হচ্ছে।
তার মতে, ‘স্লো জার্নালিজম’-এর ধারণা গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো নৈতিকতা মেনে এবং মান বজায় রেখে প্রকাশের সুযোগ তৈরি করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ছবি অনেক শব্দের চেয়েও বেশি কথা প্রকাশ করে। মানুষের মনে ছবি যে প্রভাব তৈরি করতে পারে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ-বিগ্রহসহ ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনায় জনমত তৈরিতে ছবির গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দৃক ট্রাস্টের সহযোগিতায় ‘স্লো জার্নালিজম: রিসার্চ অ্যান্ড স্টোরিটেলিং ইন ননফিকশন রাইটিং’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ।
প্রকল্পটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে দৃক-এর পক্ষে ছিলেন সায়দিয়া গুলরুখ ও সামিয়া রহমান প্রিমা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রভাষক কাজী নাফিয়া রহমান ও আশরাফুন নাহার। প্রদর্শনীর সার্বিক আয়োজন ও তত্ত্বাবধান করেন দৃক-এর জেনারেল ম্যানেজার এএসএম রেজাউর রহমান।










