একসময় রাজকীয় গয়না আর ক্লাসিক আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল মুক্তা। কিন্তু এখন, সেই ঐতিহ্যবাহী রত্নই আধুনিক ফ্যাশনে ফিরছে ভিন্ন আঙ্গিকে যেন পুরনো ঐতিহ্যে, নতুন রূপ।
বিশ্বজুড়ে র্যাম্প থেকে শুরু করে স্ট্রিট ফ্যাশন সর্বত্রই মুক্তা হয়ে উঠছে আধুনিক সৌন্দর্যের নীরব প্রতীক।
একসময় শুধু পুরোনো গয়না আর আনুষ্ঠানিক পার্টিতেই দেখা যেত মুক্তা। কিন্তু এখন ডিজাইনাররা এই ঐতিহ্যবাহী রত্নকে মিলিয়ে দিচ্ছেন ডেনিম, ব্লেজার আর মিনিমালিস্ট পোশাকের সঙ্গেও। ফলে, মুক্তা পরিণত হয়েছে আত্মবিশ্বাসী আধুনিকতার প্রতীকে।
ভারতের শ্রী জগদম্বা পার্লস-এর ম্যানেজিং পার্টনার অবনিশ আগরওয়াল বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুক্তা বিলাসিতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক। কিন্তু এখন তরুণ প্রজন্ম নতুনভাবে এই গয়নাকে সংজ্ঞায়িত করছে সাহসী নকশা, অসম্পূর্ণ আকৃতি আর জ্যামিতিক ডিজাইনে।
অবনিশ আগরওয়ালের মতে, মুক্তার এই নবজাগরণে ভূমিকা রেখেছে টেকসই ফ্যাশন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি নতুন আগ্রহ। দক্ষিণ সাগর ও জাপানি কালচার্ড পার্ল এখন পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে উৎপাদিত হচ্ছে, যা আকৃষ্ট করছে সচেতন ক্রেতাদের।
এই “অসম্পূর্ণ সৌন্দর্য”-কেই এখন ডিজাইনাররা নতুন শিল্পরূপ হিসেবে দেখছেন। বারোক মুক্তা যেগুলোর আকার একেবারে নিয়মিত নয় আজকাল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
এই নবযাত্রা শুধু ফ্যাশনেই নয়, গয়নার নকশাতেও এনেছে নতুন ভাষা। র্যাম্প থেকে লালগালিচা সর্বত্রই পুরুষ ও নারী উভয়ের গহনায় মুক্তা ব্যবহৃত হচ্ছে। স্যুট, চেইন বা ক্যাজুয়াল পোশাক সব জায়গায়ই মানিয়ে নিচ্ছে এই রত্ন।
আধুনিক ফ্যাশনে মুক্তা যেন নতুন ভাষায় বলছে পুরনো গল্প। কারুকার্য, টেকসই চিন্তা আর নিজস্বতা এই তিন মিলেই মুক্তা আজ ফিরে পেয়েছে তার রাজকীয় আসন। প্রমাণ করছে প্রকৃত সৌন্দর্য কখনো পুরোনো হয় না, শুধু রূপ বদলায়।








