জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র সম্ভব নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ আসনে বেশি করে নারীদের মনোনয়ন না দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি হবে না।
এজন্য তিনি দলগুলোর জন্য একটি আইনী কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। পাশাপাশি নারীদের নির্বাচনী এলাকায় জনগণের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।
বুধবার (২ আগস্ট) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্বের অগ্রগতি শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ-এসপিএল প্রকল্পের আওতায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, ‘নারীর জয় সবার জয়’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নির্বাচনে সাধারণ আসনের প্রার্থী হিসাবে নারীদের অংশগ্রহণ এবং মনোনয়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে।
মতবিনিময় সভায় সংসদ নির্বাচনে আরও বেশি করে নারীর মনোনয়ন পেতে এবং সাধারণ আসনে জয়ী হওয়ার জন্য অ্যাডভোকেসি কৌশল, কর্মপরিকল্পনা এবং নির্বাচনী প্রচারণার নারীদের জন্য সরকারিভাবে অর্থায়নের জন্য একটি খসড়া বেসরকারি বিল তৈরি করাসহ রাজনৈতিক দলগুলোকে সংসদ নির্বাচনে সাধারণ আসনে আরও বেশি বেশি নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়।
এই বিলের নাম প্রস্তাব করা হয়, নির্বাচনী প্রচারণা ব্যয় (নারী প্রার্থী) আইন, ২০২৩। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে নিবন্ধিত দলগুলোর ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রাথমিক খসড়া উপস্থাপন করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. আবদুল আলীম।
বিভিন্ন দলের সাবেক ও বর্তমান প্রায় ১৫ জন নারী সংসদ সদস্যের অংশগ্রহণে এই মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, পুরুষ জনপ্রতিনিধির চেয়ে নারীরা জনসেবায় পিছিয়ে নেই, কিন্তু নারী প্রার্থী ও নারী সংসদ সদস্যদের কার্য্যক্রমের প্রচার মিডিয়ায় তেমন আসেনা।
ইউএসএআইডি’র ডেপুটি মিশন ডিরেক্টর সঞ্জয় রোনাল্ড কুপার বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে নারীরা শুধু নারীর কথাই বলেন না, যারা কথা বলার সুযোগ পায় না তাদের কথাও নারীরা তুলে ধরেন।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অফ পার্টি ড্যানা এল ওল্ডস বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনে নারীদের জন্য প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বী, অর্থের প্রভাব ও পেশী শক্তি। সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে নারীদের আসন প্রাপ্য উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত খসড়া বিলটি সম্ভবত বর্তমান সংসদে পাস করা হবে না, তবে মনোনয়ন পেতে নারীরা যেসব বাধার সম্মুখীন হন এবং নারীদের প্রচারণার অর্থায়নের যে প্রয়োজনীয়তার রয়েছে তা আলোচনায় আনা যেতে পারে। এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে, এবং নারীরা পুরুষদের সাথে নিয়ে বৃহত্তর প্রতিনিধিত্ব অর্জনের জন্য একসাথে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউএসএআইডি’র ডিআরজি অ্যাকটিং অফিস ডিরেক্টর মারিয়া রেনডন, গুড গর্ভনেন্স টিম লিডার মেধাবী গিরি, পলিটিক্যাল প্রসেস অ্যাডভাইজার লুবাইন চৌধুরী মাসুম, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ইয়ুথ ও উইমেন টিমের পরিচালক লিপিকা বিশ্বাসসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।








