পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে এক বিদেশি নাগরিককে অপহরণ করে দুই দিন ধরে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ (পিজে)। লিসবনের জুডিশিয়াল পুলিশ বা পিজে জানায়, অপারেশন ‘টাকা’ একটি অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে একজন বিদেশি নাগরেককে মারাত্মকভাবে মারধর করে মুক্তিপণ আদায়ের পর ছেড়ে দেয় এই চক্রটি।
লিসবনের জুডিশিয়াল পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত দুই বাংলাদেশিকে ইতিমধ্যেই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আমাদের অভিযান চলমান আছে।
ইউরোপের মত শান্তিপূর্ণ দেশ পর্তুগালে বার বার পর্তুগিজ খবরের শিরোনাম হচ্ছে প্রবাশী বাংলাদেশিদের নাম। রাজধানী লিসবনে এক বিদেশি নাগরিককে অপহরণ, অমানুষিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন দুই বাংলাদেশি। লিসবনের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা জুডিশিয়াল পুলিশ (পিজে) সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ‘অপারেশন টাকা’ নামে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত দুই বাংলাদেশীর বয়স যথাক্রমে ৩৫ এবং ৪৩ বছর। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৭-২৮ জুনের মধ্যে। ৩৩ বছর বয়সী এক বিদেশি নাগরিক লিসবনের জানান, তাকে একটি গোপন আস্তানায় জিম্মি করে এই চক্রটি। সেখানে টানা দুই দিন ধরে ভুক্তভোগীর ওপর চালানো হয় অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন ও মারধর।
নির্যাতনের মুখে ভুক্তভোগী নাগরিক একটি বড় অঙ্কের অর্থ মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হন। চক্রটি অর্থ বুঝে পাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দিলেও, ভুক্তভোগী বিষয়টি পর্তুগিজ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অর্থ আদায়ের এই পুরো প্রক্রিয়াই পরিচালনা করা হয়েছে একটি অবৈধ চক্র।
পর্তগালে বসবাসরত প্রবাসীরা বলেন, পর্তুগালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা এখানে বসবাসরত সাধারণ প্রবাসীদের মাঝে চরম উদ্বেগ আর বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে । যা আমাদের সামনের দিনগুলোতে বিপদের দিকে নিয়ে যাবে।








