ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা দখল এবং সেখানে বসবাসকারী ২.১ মিলিয়ন ফিলিস্তিনিকে পুনর্বাসনের প্রস্তাবকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের জনগণের অধিকার লঙ্ঘন হতে দেব না। গাজা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আরও বলেন যে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবের পর হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের পরিকল্পনা এই অঞ্চলে আরও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে। জর্ডান ও মিশরসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররাও এই পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, জাতিসংঘ যেকোনো ধরনের “জাতিগত নির্মূল” এর বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, গাজা ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিউইয়র্কে এক সভায় তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব ভূমিতে বেঁচে থাকার অধিকার ক্রমশ হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ব একটি জনগোষ্ঠীর ওপর ভয়াবহ, নিয়মতান্ত্রিক অমানবিকীকরণ প্রত্যক্ষ করছে।
সৌদি আরব বলেছে, ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূমি থেকে সরে যাবে না এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। অন্যদিকে, মিশর ও জর্ডানও স্পষ্টভাবে ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ বলেন, ভূমি দখল বা ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার যে কোনো প্রচেষ্টা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা অযৌক্তিক।
এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে “ইতিহাস পরিবর্তনকারী” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত। অতি-ডানপন্থী ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছেন যে এই প্রস্তাব “৭ অক্টোবরের প্রকৃত প্রতিক্রিয়া” এবং “ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে চিরতরে সমাপ্ত করবে।”
গাজার ফিলিস্তিনিরা ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। একজন গাজাবাসী বলেন, আমরা প্রায় দেড় বছর ধরে ধ্বংসযজ্ঞ সহ্য করছি, তবুও আমরা এখানেই আছি। আমরা গাজা ছেড়ে যাওয়ার চেয়ে এখানেই মরতে চাই।
পশ্চিমা সরকারগুলোও ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথে একটি বড় বাধা। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের তাদের বাড়ি ফিরতে দিতে হবে এবং আমরা তাদের পুনর্গঠনে সাহায্য করবো।








