ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক চেষ্টা বাড়িয়েছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি ইরান সফরে গেছেন এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে একটি ‘বিশেষ চিঠি’ পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে।
রোববার (৭ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানায়।
শনিবার রাতে নাকভি ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছান। সেখানে তিনি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা ও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। ইরানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নাকভি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খামেনির জন্য একটি চিঠি নিয়ে গেছেন।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। রোববার মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা হরমুজ প্রণালীর কাছে দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, এসব ড্রোন আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি ছিল।
এর আগে শুক্রবার সেন্টকম জানায়, তারা কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ছোড়া সাতটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আটকিয়েছে। একই দিনে হরমুজ প্রণালীর দিকে পাঠানো আরও চারটি ড্রোনও তারা ধ্বংস করে। পরে মার্কিন বাহিনী জানায়, ভবিষ্যতে এমন হামলা ঠেকাতে তারা ইরানের উপকূলে থাকা কয়েকটি নজরদারি রাডার কেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে।
এসব ঘটনার পর উপসাগরীয় দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাহরাইন এসব হামলাকে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে। কুয়েত বলেছে, এতে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। মিসর, জর্ডান ও কাতারও হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধের জন্য আলোচনা চললেও এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের আশাও প্রকাশ করছেন। গত বুধবার তিনি বলেছিলেন, সপ্তাহান্তের মধ্যেই একটি চুক্তি হতে পারে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে আরও সতর্ক বার্তা এসেছে। খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, আলোচনা এখন অচল অবস্থায় রয়েছে এবং এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে ট্রাম্পকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করতে হবে।
ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার বড় একটি বাধা। এছাড়া যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করা, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিরোধও এখনো মীমাংসা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এরপর ইরান ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন স্থাপনা এবং কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল পরিবহন হয়। এ পথ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায় এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শুরু হলে বড় ধরনের সংঘর্ষ কমে আসে। তবে ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দুই পক্ষ পাকিস্তানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে। এর মধ্যেও কয়েকবার নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় আবারও বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।







