পাকিস্তানের করাচির সরকারি হাসপাতালগুলোতে এখন এক আতঙ্কের নাম এইচআইভি। গত কয়েক মাসে সিন্ধু প্রদেশের দুটি সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে শিশুসহ অন্তত ১৩০ জনের শরীরে এই মরণঘাতী ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই সংক্রমণের নেপথ্যে রয়েছে চিকিৎসা সেবায় চরম অবহেলা আর গাফিলতি।
কীভাবে ছড়াল এই সংক্রমণ?
সিন্ধু প্রদেশের শ্রমমন্ত্রী সাঈদ গনি চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানান, সেসি’ (সিন্ধু এমপ্লয়িজ সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন) পরিচালিত কুলসুম বাই ভালিকা হাসপাতাল ও এর আশপাশের এলাকায় সাড়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষের পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২০ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া করাচির লান্ধি এলাকায় সেসি পরিচালিত আরেকটি কেন্দ্রে আলাদা পরীক্ষায় আরও ১০ জনের শরীরে এই ভাইরাস মেলে। উল্লেখ্য, ‘সেসি’ একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রাদেশিক সংস্থা, যা মূলত শিল্প ও বাণিজ্য খাতের শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে।
তদন্ত বলছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে এই সংক্রমণের সূত্রপাত। হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধের কোনো বালাই ছিল না, চিকিৎসকরা সুরক্ষা সরঞ্জাম ঠিকমতো ব্যবহার করতেন না এবং সিরিঞ্জ ব্যবহারেও ছিল বড় ধরনের অনিয়ম।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
পরিস্থিতি ভয়াবহ। গত ১৫ বছরে পাকিস্তানে এইচআইভি সংক্রমণের হার বেড়েছে ২০০ শতাংশ। ২০২৪ সালেই আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমানে দেশটিতে এইচআইভি নিয়ে বেঁচে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের ৮০ শতাংশই জানেন না যে তারা আক্রান্ত। শুধু ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই সিন্ধু প্রদেশে ৩২৯ জন শিশুসহ ৮৯৪ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ
পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সাধারণ সিরিঞ্জ বিক্রি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য ২০০ কোটি রুপির তহবিল গঠন এবং হাসপাতালগুলোতে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সিরিঞ্জ নিয়ন্ত্রণ করলেই এই সংকট কাটবে না। বেসরকারি খাতের দুর্বল তদারকি এবং ইনজেকশননির্ভর চিকিৎসার যে মানসিকতা গড়ে উঠেছে, তা পরিবর্তন না করলে এই মরণঘাতী সংক্রমণ রোধ করা প্রায় অসম্ভব।








