ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ-এর আয়োজনে “অপারেশন সার্চলাইট: বাংলাদেশে জেনোসাইডের শুরু ও বিস্তৃতি” শীর্ষক বক্তৃতা ও আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, “বিশ্বে পাকিস্তান একমাত্র দেশ যারা লিখিত আদেশ দিয়ে বাংলাদেশে জেনোসাইড করেছে। অপারেশন সার্চলাইট তার প্রমাণ”।
আজ ১৪ মে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ-এর কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যে নৃশংসতম জেনোসাইড করেছে তার পর্যাপ্ত প্রমাণ আছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে ইতিমধ্যে সংগৃহীত প্রমাণসহ আরও প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে সেটি আর্ন্তজাতিক মান অনুযায়ী ডকুমেন্টেশন করে বৈশ্বিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে এবং বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায় করতে হবে।”
আলোচনা সভায় মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফট্যানেন্ট কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির, বীর প্রতীক। সম্মাননীয় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেষ্ঠ্য সাংবাদিক, গবেষক ও লেখক অজয় দাশগুপ্ত; নিরাপত্তা বিশ্লেষক, গবেষক ও লেখক মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, পিএসসি, আইন বিশ্লেষক, গবেষক ও সাবেক জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ ফউজুল আজিম ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস এ্যান্ড জাস্টিস-এর পরিচালক (গবেষণা) ড. এম সানজীব হোসেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ- এর পরিচালক অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা লে. কর্ণেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বলেন, “অপারেশন সার্চলাইট কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বাংলাদেশে জেনোসাইড করার পর্বে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বেলুচিস্তান ও জর্ডানে জেনোসাইড করে। বেলুচিস্তান এবং জর্ডানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জেনোসাইড করে সফল হলেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাদের সামরিক এবং ঐতিহাসিক পরাজয় হয়েছে”।
অজয় দাশগুপ্ত বলেন, “১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ছিলেন টিক্কা খান। তার দায়িত্ব ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা। কিন্তু তিনিই অপারেশন সার্চলাইট-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনোসাইডের নির্দেশ দেন”।
সভার সভাপতি অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, “১৯৭১ সালে বাঙালিদের পৃথিবী থেকে নির্মূল করার জন্য পাকিস্তানি মিলিটারী মার্চ মাস থেকে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তারা ‘ডেসট্রয় অ্যান্ড কিল’ এবং ‘স্কর্কড গ্রাউন্ড’-এর মধ্য দিয়ে সারা বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে অসংখ্য জেনোসাইড চালায়। কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ এবং অচিরেই তারা বুঝতে পারে যে, বাঙালিরা হচ্ছে অদম্য এদেরকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না”।









