পরিবেশ

সুপার এল নিনোর প্রভাবে ছয় মাসে বাংলাদেশে ৬ হাজারের বেশি মৃত্যুর শঙ্কা

সুপার এল নিনোর প্রভাবে ছয় মাসে বাংলাদেশে ৬ হাজারের বেশি মৃত্যুর শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

সুপার এল নিনোর প্রভাবে আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশে তীব্র গরমের কারণে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। অক্টোবর থেকে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত সম্ভাব্য তাপজনিত মৃত্যুর এই পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা উদ্যোগ ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের ‘এল নিনো হিট মর্টালিটি ট্র্যাকার’। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে বিশ্বজুড়ে এল নিনো সংশ্লিষ্ট তাপের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লাখ ৭৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলো। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তাপজনিত অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে। তবে এগুলো পূর্বাভাসভিত্তিক হিসাব, নিশ্চিত মৃত্যুসংখ্যা নয়।

চলতি বছরের এল নিনো ইতিমধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ দশমিক ০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।

এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যায়। এর ফলে কোনো অঞ্চলে তীব্র গরম ও খরা দেখা দিতে পারে, আবার অন্য কোথাও বাড়তে পারে বন্যা ও ঝড়ের ঝুঁকি।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ছয় মাসে নাইজেরিয়ায় প্রায় ৫৬ হাজার এবং ভারতে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষের তাপজনিত অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে। ভারতে সম্ভাব্য মৃত্যুর বড় অংশ ঘটতে পারে আগামী বছরের মার্চে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ২৯ হাজার এবং ব্রাজিলে প্রায় ১৯ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে। তবে নিকারাগুয়া, ইয়ামেন ও পাকিস্তানে এই ক্ষতির শঙ্কা তুলনামূলক কম, যেখানে নিকারাগুয়াতে অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা ৮৯০, ইয়ামেনে ৮৮০ এবং পাকিস্তানে ৮২০ জন।

ডিসেম্বরের দিকে তীব্রতা বাড়তে পারে এল নিনোর

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, চলতি বছরের এল নিনো ডিসেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে। এর প্রভাব ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ বাড়তে পারে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এর আবির্ভাব ঘটে এবং একেকটি পর্ব প্রায় নয় থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশের পানির উপরিভাগের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসে।

মৃত্যুঝুঁকি কমাতে আগাম প্রস্তুতির তাগিদ

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, তীব্র গরমের প্রাণঘাতী প্রভাব আগে থেকে অনুমান করতে পারা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এতে কোন অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন, তা চিহ্নিত করে প্রাণহানি ঠেকাতে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

গবেষণা উদ্যোগটির মতে, তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে আগাম সতর্কবার্তা, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং শীতল আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার মতো পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্যও এ পূর্বাভাস জনস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরছে। তবে ৬ হাজার ৭০০ মৃত্যুর হিসাবটি একটি মডেলভিত্তিক অনুমান। বাস্তবে কত মানুষের মৃত্যু হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। স্থানীয় আবহাওয়া, মানুষের স্বাস্থ্যগত অবস্থা, তাপ মোকাবিলার সক্ষমতা এবং অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের ওপর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে।

বিষয়:আগামী ৬ মাস বাংলাদেশ মৃত্যুর শঙ্কা সুপার এল নিনো

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…