ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বন্ধ ছিল ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল। এতে সড়কের উভয় পাশে কয়েক হাজার যানবাহন আটকা পড়ে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার হামিরদী ও মানিকদাহ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও শুরুতে তারা সফল হতে পারেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশে হাজারো গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে পুলিশের সার্কেল কর্মকর্তা, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), কয়েকজন পুলিশ সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে মানিকদাহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বরের সমর্থক এবং হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য চেয়ে জেলা সদরকে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাশাপাশি মহাসড়কের দুই পাশে আটকে পড়া হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।







