চলচ্চিত্রে খল অভিনেতা হিসেবে পরিচিত ইলিয়াস কোবরা। বিশেষ করে মার্শাল আর্টধর্মী সিনেমাগুলো করে তিনি বেশি পরিচিতি পান। আশির দশকে ‘মারকশা’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক রুবেলের সহযোগিতায় এবং সোহেল রানার হাত ধরে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে ইলিয়াস কোবরার।
ওই ছবিতে একাধিক ভিলেনের মধ্যে ইলিয়াস কোবরা ছিলেন একজন। সেখানে তিনি ‘কোবরা‘ নামে অভিনয় করেছিলেন। এরপর থেকেই তিনি ইলিয়াস কোবরা নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। চলচ্চিত্র নির্মাণ কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে এই অঙ্গন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন ষাটোর্ধ্ব ইলিয়াস কোবরা।
ইলিয়াস কোবরা বলেন, “এমনও সময় গেছে, মাসে ৪৫টি সিনেমায় কাজ করেছি। যত সিনেমা হতো, সবখানেই আমি থাকতাম। এভাবে প্রায় ৭০০ সিনেমায় অভিনয় করেছি। কিন্তু তখন কোনো সঞ্চয় করিনি। সেই সময় ভুলেও মাথায় আসেনি, একদিন সিনেমা হল থাকবে না, সিনেমাও হবে না।”
কয়েক বছর আগে থেকে তাবলীগ করা শুরু করেন ইলিয়াস কোবরা। সিনেমা থেকে নিজেকে গুটিয়ে ফিরে যান কক্সবাজারের টেকনাফে।
সেখানকার নোয়াখালীপাড়া গ্রামে বসবাস করেন তিনি। কোবরা জানান, তার তিন সন্তানের একজন প্রকৌশলী, একজন একটি ল-ফার্মে চাকরি করেন, আরেকজন ব্যবসা করেন।
কথা প্রসঙ্গে ইলিয়াস কোবরা জানান, তার নামে এলাকায় ‘ইলিয়াস কোবরা বাজার’ রয়েছে। স্থানীয়রা ভালোবেসেই বাজারটির নাম রেখেছেন।
তিনি বলেন, “গ্রামে ফিরে স্থানীয় মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। পাশাপাশি পানের বরজ ও পেঁপের চাষ করি। গরুর খামার আছে, হালচাষও করি। পাহাড়ি এলাকায় বাস করি বলে সামাজিক বিভিন্ন কাজেও সময় দিই। বয়স সত্তরের কাছাকাছি হলেও এখনও পুরোপুরি সুস্থ আছি।”
ইলিয়াস কোবরা বলেন, “সবাইকেই একদিন চলে যেতে হবে। তাই জীবনের এই সময়টা পরকালের জন্য প্রস্তুতি নিয়েই কাটানোর চেষ্টা করছি। তাবলীগ করি, হজ পালন করেছি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। এখন এগুলোতেই শান্তি পাই। আগে অনেক ভুল করেছি, এখন আফসোস লাগে। আমি সবাইকে বলব, কেউ যেন সেই ভুল না করে। কারণ, আজ হোক বা কাল, আমরা কেউই চিরদিন এই দুনিয়ায় থাকব না।”
সিনেমা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলেও আসন্ন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আরমান-মুক্তি প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ইলিয়াস কোবরা। সেই উপলক্ষে তিনি টেকনাফ থেকে ঢাকায় এসেছেন। তিনি বলেন, “শিল্পীদের খেদমত করতে চাই, তাই নির্বাচন করছি।







