জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সে বিষয়ে আজ আদেশ দেবেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (১০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ গঠন করা হলে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
এর আগে গত ৭ মে এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার দিন নির্ধারিত থাকলেও পরে তা পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন।
গত ২৬ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করেন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। ওইদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ট্রাইব্যুনালে তিনটি অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ উপস্থাপন করেন এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাপসের ফোনালাপের বিষয়ও উল্লেখ করেন।
শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভিডিও ফুটেজে অন্যান্য আসামিদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের অব্যাহতির আবেদন জানান। এক আসামির আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ দাবি করেন, ঘটনাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে না। এ ধরনের অপরাধ বিচারের জন্য আলাদা আইন রয়েছে বলেও তিনি শুনানিতে উল্লেখ করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, উসকানি, প্ররোচনা এবং প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে মোহাম্মদপুর এলাকায় মাহমুদুর রহমান সৈকত ও ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন।








