জনপদ

যবিপ্রবিতে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ দেখার সময় মারামারি, সাংবাদিকদের ওপর হামলা

যবিপ্রবিতে মারামারি ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার সময়ের ছবি. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

যবিপ্রবিতে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ দেখার সময় মারামারি ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার দৃশ্য।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, হুমকি এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচ প্রদর্শনের সময় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খেলা চলাকালে পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পিএমই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জিমনেসিয়ামের বাইরে অবস্থান নেন।

একপর্যায়ে এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ জিমনেসিয়াম থেকে বের হয়ে শহীদ মিনারসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকেরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি মো. ইমরান হোসেন, ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি মো. সাব্বির আহম্মেদ এবং সংবাদ পরিক্রমার প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলাম।

অভিযোগে পিএমই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কিবরিয়া, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন সৈকত, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুজয় দাস এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহাফিজসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, মাহাফিজ বর্তমানে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত কিবরিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন। মাহাফিজ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে আহাদ হোসেন সৈকত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আপনারা টাকা খেয়ে হলুদ সাংবাদিকতা করেন। আমি কোনো সাংবাদিককে মারিনি।’

দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইমরান হোসেন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন। ভিডিও ধারণের সময় তাকে লাথি, কিল-ঘুষি মারা হয় এবং ভিডিও বন্ধ করতে বলা হয়।

ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি সাব্বির আহম্মেদ বলেন, ভিডিও ধারণের সময় তার ওপর চড়াও হয়ে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সংবাদ পরিক্রমার প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলামও দাবি করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাকে হুমকি দিয়ে ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভিডিওসহ সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়:২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকদের ওপর হামলা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…