রাজধানীর উত্তরায় দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ওই ভবনে আটকা পড়েছিলেন স্কুল শিক্ষিকা পূর্ণিমা দাস। বিমান বিধ্বস্ত হয় দুপুর একটার দিকে। সেসময় স্কুল ছুটি হয়। তার দাবি, স্কুল ছুটির সময় হওয়ায় তিনচার মিনিট আগেই সবাই চলে গিয়েছিল। শুধু সেখানে একটি বাচ্চা দাঁড়ানো ছিল।
এ বিষয়ে বুধবার (২৩ জুলাই) সকালে শিক্ষিকা পুর্ণিমা দাস তার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে একটি পোস্ট দেন।
পোস্টে তিনি বলেছেন, “আমি মাইলস্টোনের হায়দার আলী ভবনের একজন শিক্ষিকা। আপনাদেরকে দুই হাত জোর করে বলছি ভুল তথ্য ছড়াবেন না। আমিও আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছিলাম আমার চেয়ে বেশি আপনারা ফেসবুকবাসী জানবেন না, তাইনা? স্কুল ছুটি হয় দুপুর ১ টায়, আমি ঠিক তার এক থেকে দুই মিনিটে স্কাই সেকশনে ঢুকে দেখি ওখানে শুধু একটা বাচ্চা দাঁড়ানো। কেউ ছিলো না সবাই চলে গেছিলো। আপনারা জানেন না ছুটির সময় হলে বাচ্চারা তিন চার মিনিট আগে থেকেই কিভাবে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাসায় যাওয়ার জন্য এবং আমি চলে আসার পর অভিভাবক আসেনি বলে আবার স্কাই এ কিছু বাচ্চা ঢুকেছিলো তাদেরকেও আমাদের আরেকজন টিচার ক্লাস থেকে নিয়ে অন্য সেকশনে বসায়। এরপরেও আবার কয়েকজন (৫-৬ জন) ঢুকেছিলো তাদেরকেই আমরা হারিয়ে ফেলেছি। বা যারা করিডোরে, দোলনায় খেলছিলো বা সিঁড়িঘরে ছোটাছুটি করছিলো বা ওই মুহূর্তে ওই জায়গায় কাকতালীয়ভাবে ছিলো।”
তিনি আরও বলেন, “‘ক্লাউড’ এ ওখানে বাচ্চার সংখ্যা (৮-১০) স্কাই এর চেয়ে বেশি ছিলো। আমার ধারনা মাহরীন মিস, মাসুকা মিস ও মাহ্ফুজা মিস ওখান থেকেই বাচ্চা বের করার চেষ্টা করছিলো এবং তাদের বের করতে করতে নিজেরা ঝলসে যায়। যারমধ্যে মাহরীন মিস এবং মাসুকা মিসকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি। মাহফুজা মিসের অবস্থা এখন গুরুতর উনি লাইফ সাপোর্টে আছেন। উনার জন্য আপনারা দোয়া করবেন।”
ওই শিক্ষিকার পোস্ট অনুযায়ী, ‘ক্লাউড’র পাশের রুম ‘ময়না’। এখানে কিছু বাচ্চা অসুস্থ হয়েছেন। তবে কেউ মারা যায়নি। ‘ময়না’র পাশের রুম ‘দোয়েল’। এই ক্লাসের একটি বাচ্চাও বেঁচে নেই। ‘দোয়েল’র পাশে রুম‘টিউবরোজ’ এবং ‘ওয়াটারলিলি’। এখানে সবাই নিরাপদ আছে। দ্বিতীয় তলার বাচ্চারাও নিরাপদ আছে। দুইটি ক্লাসরুম এবং একটি টিচার্স রুম পুড়েছে। ওখানেও ১৫-২০ জন ছিল। হায়দার আলী ভবনের মুখে, দোলনায় এবং করিডোরের হাঁটাহাঁটি করা বাচ্চার সংখ্যা বলতে পারেননি তিনি। তবে তাদের অনেকের শরীর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যে লাশগুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরমধ্যে আছে ওখানকার আয়া রাও।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা টিচার, রাজনীতিবিদ নই’ আপনারা যত মৃতের সংখ্যা বলছেন, সেটি একেবারে সম্ভব না। তারমধ্যে আমরা যারা দুই কর্ণারে ছিলাম, তারা তো অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছি। তাই ভুল তথ্য না ছড়ানো ও মানুষের ইমোশন নিয়ে না খেলার অনুরোধ করেছেন তিনি।







