মুক্তিযুদ্ধের সময় ওমর সানীর বয়স ছিল ২/৩ বছর। তখনকার পরিস্থিতি ওভাবে তার কিছুই মনে নেই। কিন্তু ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার যে অভ্যুত্থান হয়েছে, সেটি প্রত্যক্ষ করতে পেরেছেন তিনি। বললেন, ‘এই জীবনে দুবার স্বাধীন হওয়ার স্বাদ পেলাম’।
তবে নব্বই দশকের সাড়া জাগানো এই নায়ক জানালেন, তিনি সবচেয়ে বিস্মিত হয়েছেন এই জেনারেশনের শিক্ষার্থীদের শক্তি দেখে। তার অনেক ভুল ধারণা কেটে গেছে।
বুধবার দুপুরে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে ওমর সানী বলেন, আমার ধারণা ছিল ৮০ সালে যখন তরুণ ছিলাম, আমরাই সাহসী ছিলাম। ৯০-এর গণ আন্দোলনও চোখের সামনে দেখেছি। কিন্তু ২৪-এ আন্দোলন দেখলাম এতে মনে হয়েছে এই জেনারেশন সবচেয়ে বেশি সাহসী। সত্যি বলতে ভেবেছিলাম, এখনকার ছেলে মেয়েরা ঘরকুনো, রাত জাগে, ফেসবুকসহ অনেককিছুতে আসক্ত। ওদের উপর ভরসা ছিল না। কিন্তু শুধু আমার কেন, গোটা দেশের মানুষের ধারণা পাল্টে দিয়ে তারা স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়েছেন। এ কারণে ওদের প্রতি আমার সেলুট।
ওমর সানী জানান, সমগ্র পৃথিবীকে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা দেখিয়েছে তারা কতটা শক্তিশালী। তিনি বলেন, তাদের জন্য নতুন বাংলাদেশ দেখছি। এই যেন বুক ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছি সবকিছু মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ্। যে স্বাধীনতা তারা এনেছে সেটা সবাই মিলে রক্ষা করতে হবে।
গেল বছর সেপ্টেম্বরে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির ফলে বিরক্ত হয়ে প্রতিবাদ জানান ওমর সানী। নিজের ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘রাষ্ট্র বলে দেন আমরা কি খাব? খাবারের লিস্ট দিয়ে দেন, আর পারছি না।’ মূলত রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় জড়িত থাকায় খাদ্য দ্রব্যের দাম বৃদ্ধিতে ব্যবসায় প্রভাব পড়ায় এই পোস্ট দেন ওমর সানী। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। এমনকি উপর মহল থেকে চাপ দেয়া হয়েছিল জানিয়ে সানী বলেন, “মিন্টো রোডেও (ডিবি কার্যালয়) ডাকা হয়েছিল। তবে তারা আমাকে ঝামেলায় ফেলেনি। পোস্টটি ডিলিট করতে বলেছিল, কিন্তু তা করিনি।”
নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যয়ী সবাই। এ ব্যাপার আপনার মতামত কী? ওমর সানী বলেন, আসিফ মাহমুদ (যুব ও ক্রিড়া উপদেষ্টা) হওয়ায় অনেকে মনে করছে সাকিব আল হাসানের দিন শেষ। কারণ সে দলীয় প্রতীক। কিন্তু না, সাকিবকে দেশের সম্মানের জন্য খেলতে হবে। নতুন দল ঘোষণায় তাকে রাখা হয়েছে। এটা যদি আগের জেনারেশনের কেউ উপদেষ্টা থাকতেন তাহলে হয়তো সাকিবকে বাদ দিয়ে দিতেন। এখানে তারুণ্য আলাদা।
সানী বলেন,“ব্যক্তিগতভাবে আমার আফসোস, ইমরুল কায়েসের মতো প্লেয়ার কেন ওপেনিং ব্যাট করতে পারে না? সম্ভবত মুশফিকুর রহিমের অপরাধ তার বাড়ী বগুড়া? এমন অনেক অসঙ্গতি চারদিকে রয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে এগুলো যেন আমাদের না দেখতে হয়।”
এদিকে, কদিন আগে নায়িকা মৌসুমীর বিরুদ্ধে চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। বিষয়টি প্রসঙ্গে ওমর সানী বলেছেন, মার্সিডিজ কেনার জন্য লোন নিয়েছিলাম। আমেরিকা যাওয়ার আগে মৌসুমী কয়েকটি চেক দিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সে দেশের বাইরে যাওয়ার পর এনবিআর তার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে। এতে করে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে তারা পেমেন্ট পাচ্ছিল না। তাদের রিকোয়েস্ট করেছিলাম একটু সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা শোনেনি। টাকা বাকি আছে অভিযোগ এনে মামলা করে দিল। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক রাঘববোয়াল কোটি কোটি নিয়েছে। তাদের লিস্টটা কেন দেয় না? মৌসুমী আর্টিস্ট দেখে তারা ভাইরাল নিউজ করে মজা নিতে এসব করছে।”








