মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো অপরিশোধিত জ্বালানির তেলের দাম বেড়েছে। ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর বাজারে সরবরাহ সংকটের শঙ্কা আরও তীব্র হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচারের দাম ৩৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ফিউচারের দাম ৪২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন বুধবারও উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখন এক মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি বন্দর এলাকায় পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপের পাশাপাশি দেশটির উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান আঞ্চলিক জ্বালানি রফতানি আরও সীমিত করার হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অস্তিত্বের যুদ্ধ’ চলছে বলে দাবি করেছে।
নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোইউকি কিকুকাওয়া বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংকটের কারণে বাজারে তেল কেনার প্রবণতা বেড়েছে। যদিও বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা এখনও সীমিত বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে ডব্লিউটিআই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৮৭ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে তার ধারণা।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই এই পথের সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কাই বর্তমানে বাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ।







