বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ থেকে দুর্দান্ত প্রতাপে খেলতে থাকে স্বাগতিক ভারত। গ্রুপপর্বের নয়টি ম্যাচের পর সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকেও পাত্তা দেয়নি রোহিত শর্মার দল। তবে ফাইনালে এসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পথ হারায় দলটি, সেটাই শেষ ম্যাচ যার মাধ্যমে স্বপ্ন ভেঙেচুরে একাকার হয় পুরো ভারতের। এরপর অনেক দিন আড়ালেই ছিলেন মারকুটে এ ওপেনার। আহমেদাবাদে ফাইনালের ২৪ দিন পর এক ভিডিও বার্তায় মাধ্যমে এবার মুখ খুলেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওই ভিডিওতে রোহিত বলেছেন, ‘এর থেকে কিভাবে বের হয়ে আসবো আমার কোনো ধারণা ছিল না। প্রথম কিছু দিন আমি জানতামই না কি করব। আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব সবাই আশেপাশের বিষয়গুলোকে হালকা করার চেষ্টা করছিল যা আমাকে বেশ স্বস্তি দেয়।’
‘এটা হজম করা সহজ না, কিন্তু জীবন চলে জীবনের নিয়মে। জীবনে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু, সত্যি কথা বলতে এটা বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার মত সহজ ছিল না।’
‘৫০ ওভারের ম্যাচ দেখতে দেখতে আমি বড় হয়েছি, এবং এটাই আমার কাছে পরম বিষয়। ওই বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই আমরা কাজ করেছি…এবং এটা বেশ হতাশাজনক, তাই না? যদি এটার মধ্য দিয়ে না যেতে পারেন, যা চান তা না পান, এতদিন ধরে যা খুঁজছেন তা না পান, যার স্বপ্ন দেখছেন আপনি হতাশ হবেন সে সময়।’
সবকিছু দিয়ে খেলার কথা উল্লেখ করে ৩৬ বর্ষী রোহিত বলেন, ‘আমাদের পক্ষে যা কিছু করার ছিল তার সবটুকু করেছি। আপনি পারফেক্ট ম্যাচ খেলতে পারবেন না, সেটা হবেও না, কাছাকাছি খেলবেন। দলের অন্যান্য বিষয়গুলো যদি দেখেন, আমি সত্যিই আমার দল নিয়ে গর্বিত। কারণ আমরা যেভাবে খেলেছি তা অসাধারণ। আমি নিশ্চিত, ফাইনালের আগপর্যন্ত আমাদের খেলা সবাই উপভোগ করেছে।’
‘ফাইনালের পর জীবনে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল, যার কারণে আমার কোথাও যাওয়া প্রয়োজন যেখানে এসব কিছু নেই। তারপর যেখানে যাচ্ছিলাম সবাই আমাদের প্রচেষ্টাকে বাহবা দিচ্ছিলো, উপলদ্ধি হলে কত ভালো খেলেছিলাম আমরা। তারা সবাই, আমাদের সাথে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন বুনছিল।’
‘আমার জন্য, তারা সবাই আমার কাছে আসছিল এবং বলছিল আমাদের জন্য তারা গর্বিত। তাদের সাথে থেকে আমি বেশ ভালো বোধ করছিলাম। তারা আমাদের প্রতি কোনো রাগ প্রকাশ, দুঃখ, ক্ষোভ প্রকাশ করেনি, যা ছিল তার পুরোটাই ভালোবাসা।’








