টাইটানিকের পাশে ধ্বংসাবশেষ পাওয়া নিখোঁজ সাবমার্সিবল টাইটানের নিরাপত্তা নিয়ে কয়েক বছর আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। ওই সময় টাইটানের নিরাপত্তার বিষয়ও উত্থাপিত হয়েছিল।
সিবিসি নিউজ জানায়, নিখোঁজ হওয়া টাইটান ডুবোযানটির বিষয়ে ওশানগেটের সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড লকরিজ ২০১৮ সালেই এর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নথিতে দেখা যায়, কোম্পানিটির মেরিন অপারেশনের পরিচালক ডেভিড লকরিজ এক প্রতিবেদনে তিনি এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরেন।
প্রতিবেদনে বলা হয় ‘অনেকগুলো জায়গা শনাক্ত করা হয়েছে যা নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি’। এছাড়াও তিনি দাবি করেন এই পরীক্ষার বিষয়ে। তিনি বলেন, এটা যেভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে সে নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এই ডুবোযান যখন পানির একেবারে গভীরে যাবে তখন সেখানে থাকা যাত্রীদের জন্য সেটি মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে জানান লকরিজ।
তিনি বলেন, তার এই সতর্কতা উপেক্ষা করা হয়। ওই সময় তিনি যখন ওশানগেট বসের সাথে বৈঠক বসতে চেয়েছেন, তখন তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে এই নথি থেকে জানা যায়।
কোম্পানি তার বিরুদ্ধে গোপনীয় তথ্য প্রকাশের অভিযোগে মামলা করে। এসময় তিনিও পাল্টা মামলা করেন তাকে অনৈতিকভাবে ছাঁটাই করার জন্য। পরে দু’পক্ষই মামলার বিষয়টি নিয়ে সমঝোতায় আসে।
লচরিজ দাবি করেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন সংস্থাটি ‘পরীক্ষামূলক ডুবোজাহাজে যাত্রীদের সম্ভাব্য চরম বিপদের মধ্যে ফেলতে পারে।’
আদালতের নথিতে লকরিজ দাবি করেন, এর কাঠামো কতেটা চাপ নিতে পারে এবং এর সম্ভাব্য সমস্যাগুলো কী তা যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। তার দাবি এটি কতোটা চাপ নিতে পারে সেটার একটা ছোট স্কেলে পরীক্ষার সময় এই ডুবোযানের কার্বন ফাইবারে বেশ কিছু ত্রুটি ধরা পড়ে। একইসাথে টাইটানের যে জানালা রাখা হয় সেটা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন লকরিজ।
তিনি বলেন, যারা এটি বানিয়েছে তাদের সেই উপকরণ তখনই স্বীকৃতি পাবে যখন তা এক হাজার ৩০০ মিটার গভীরে ব্যবহার করা হবে।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ওশানগেট এক বিবৃতিতে জানায়, টাইটান ৪০০০ মিটার গভীর পর্যন্ত গিয়েছে যা এর ‘কার্বন ফাইবার ও টাইটানিয়াম কাঠামোর ব্যাপারে ওশানগেটের উদ্ভাবনী প্রকৌশল ও নির্মাণকে নিশ্চিত করে’।
২০২০ সালে গিকওয়্যারের সাথে এক সাক্ষাৎকারে রাশ বলেন, পরীক্ষায় ডুবোযানটি ‘টানা ব্যবহারে কিছু ক্লান্তির ছাপ’ দেখিয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে ওশানগেটের সিইও স্টকটন রাশ ফ্লোরিডার এক দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। কারণ, টাইটানে বেশ কয়েকটি বাতিল ভ্রমণের জন্য তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত চেয়েছেন। মার্ক এবং শ্যারন হ্যাগল দম্পতি তাদের মামলায় বলেছিলেন, টাইটান যে টাইটানিকের গভীরতায় পৌঁছাতে পারে তা প্রমাণ করার জন্য তাদের হাতে যথেষ্ট সময় ছিল না। যার ফলে যাত্রাটি বাতিল করতে হয়েছে বলে ওশানগেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এছাড়াও ‘সরঞ্জাম ব্যর্থতার কারণে’ আরেকটি ভ্রমণ বাতিল করা হয়েছিল বলেও সিবিসি নিউজ ফোর্ট-মায়ার্স নিউজ সূত্রে জানায়।







