নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তুলতে যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে (এনডব্লিউপিজিসিএল) ১২০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে।
সোমবার (৪ আগস্ট) সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ রবিউল আলম। বোর্ড সদস্যরা সশরীরে ও ভার্চ্যুয়ালি অংশ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রস্তাব পর্যালোচনা ও অনুমোদন দেন।
বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যমুনা সেতু সাইটে ১২০ একর জমিতে ৫৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, কার্বন নিঃসরণ কমবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সভার শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে পূর্ববর্তী বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং নতুন আলোচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরেন। পরে বোর্ড সদস্যরা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন করেন।
এসময় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন আরও কার্যকর করতে পুনর্বাসন ভিলেজে ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিচালনা-সংক্রান্ত চুক্তি পুনর্বহাল এবং সেতু নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও গবেষণায় দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে সেন্টার ফর ব্রিজ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (সিবিআরটি) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।







