আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ওভারসিজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ওক্যাব) সাংবাদিক নজরুল ইসলামকে চীন সফরে যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংগঠনটি জানায়, গত ৩ মে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ কোনো স্পষ্ট কারণ না দেখিয়ে তাকে ভ্রমণে বাধা দেয়।
নজরুল ইসলাম জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ’র প্রতিনিধি এবং বর্তমানে ওক্যাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) ওক্যাব এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে অযৌক্তিক, অপ্রত্যাশিত এবং নাগরিকের মৌলিক ভ্রমণ অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে এটি সাংবাদিকদের মধ্যে ভীতি ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টির চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের দিনেই এ ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ওক্যাব সরকারের প্রতি কয়েকটি দাবি জানিয়েছে। এগুলো হলো সাংবাদিকদের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, বিনা অভিযোগে আটক সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া, শতাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ মামলাগুলো প্রত্যাহার করা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টি করে এমন আইন সংস্কার বা বাতিল করা, গণমাধ্যমকর্মীদের সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, গণমাধ্যম সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বতন্ত্র ফ্যাক্ট-চেকিং উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়া।
নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ৩ মে চীন যাওয়ার জন্য বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করার পর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাকে জানানো হয়, ‘নিরাপত্তা সংস্থার ক্লিয়ারেন্স না থাকায়’ তিনি ভ্রমণ করতে পারবেন না।
একটি ফেসবুক পোস্টে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভ্রমণে বাধা দেওয়ার কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি।
ওক্যাব অবিলম্বে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে এবং সাংবাদিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।








